ছবির ক্যাপশন: .
মোঃ আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে দেশের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড। খুব শিগগিরই কৃষক কার্ড চালু করা হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়, তখন একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল, যা দেশের মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী সব জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না। কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরুন।”
রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব এলাকার উন্নয়ন সুষমভাবে করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে গত দুই সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের বিষয় রয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে মানুষ দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছে। একইভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে দেশের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব
দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সৈয়দপুর থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি ছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান এবং তারাও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
