শিউলি ফুলের আয়ু খুবই কম। সূর্যোদয়ের আগেই গাছ থেকে ঝরে পড়ে। অথচ এই ঝরা ফুল দিয়েই একটি সন্ধ্যা প্রাণবন্ত করে সাজিয়ে তুললেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছিল পরীমণির জন্মদিন। এদিন সন্ধ্যায় কাছের বন্ধু, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে রাজধানীতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ভেন্যুর সিঁড়ি সাজানো হয় শিউলি ফুল দিয়ে। কেবল তাই নয় নিজের পোশাকেও শিউলি ফুলের ছোঁয়া রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী।
মজার ব্যাপার হলো—পরীমণির জন্মদিনে এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম থেকে বিমান করে শিউলি ফুল পাঠান। এ বিষয়ে পরীমণি বলেন, “আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, কেউ আমাকে অনেকগুলো শিউলি ফুল এনে দাও। কিন্তু এটা সম্ভব না। কারণ এটা চার-পাঁচ ঘণ্টাও ঠিকমতো থাকে না। একজন চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইটে (বিমানে) আমার জন্য শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন। উনার পাঠানো ফুল পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারিনি। কিছুটা ব্যবহার করেছি।”
শিউলি নয়, পরীমণির খোপায় গোঁজা বেলি ফুলের মালা
চট্টগ্রাম থেকে কে শিউলি ফুল পাঠিয়েছিলেন, তা অবশ্য জানাননি পরীমণি। তবে ভেন্যুর সিঁড়ি থেকে উপরের দিক পর্যন্ত শিউলি ফুলে সাজানো ছিল। এ অভিনেত্রী বলেন, “আসলে পুরোটা জুড়ে আমি শিউলি ফুলের বাগান করতে চেয়েছিলাম। যদিও সেটা সম্ভব না। তাই নিজেই শিউলি ফুলের মতো সাজার চেষ্টা করেছি।”
পরীমণির প্রত্যেকটি জন্মদিনই তার কাছে বিশেষ। কোনোটিকে আলাদা করতে চান না। জন্মদিনটি বিশেষ করে তুলতে শিউলি সন্ধ্যার পরিকল্পনা ৬ মাস আগে করেছিলেন এই অভিনেত্রী। আয়োজনের পুরো আইডিয়াও তার বলে জানান পরীমণি।
সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া পরীমণির পুরো নাম—শামসুন্নাহার স্মৃতি। তবে পরীমণি নামেই পরিচিত। বাবা মনিরুল ইসলাম, মা সালমা সুলতানা। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। এরপর পিরোজপুরে নানাবাড়িতে বড় হন।
২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পরীমণির। এ সিনেমায় তার সহশিল্পী ছিলেন জায়েদ খান। তবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের আগেই অনেকগুলো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনার জন্ম দেন তিনি
নানা শামসুল হক গাজী ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ও সাহসের নাম। শৈশবের সেই আশ্রয় পরবর্তীতে পরীমণির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। তবে ২০২৩ সালে প্রিয় নানাকে হারান এই অভিনেত্রী। শিউলি সন্ধ্যায় প্রিয় নানাকেও স্মরণ করেন পরীমণি।
