আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে এ উৎসব। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুড়িগ্রাম জেলায় ৫৬৬টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা রং করা, চোখ আঁকা, শাড়ি, মুকুট, গয়না, চুল ও বিভিন্ন অলংকার দিয়ে প্রতিমা সাজানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
অন্যদিকে, তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। সব মিলিয়ে উৎসবকে বরণ করে নিতে মণ্ডপগুলোতে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।
এদিকে, দুর্গাপূজা চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপনে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিমাশিল্পী শ্রী শুভ মহত্ত্ব বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু পেশা নয়, এটি আমাদের শিল্প ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিটি প্রতিমা যত্ন নিয়ে তৈরি করতে হয়। পূজার আগে সময়মতো কাজ শেষ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ভক্তরা যখন সুন্দর প্রতিমা দেখে আনন্দ পান, তখন আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়। ইতোমধ্যে আমি কয়েকটি প্রতিমার কাজ করেছি।
প্রতিমাশিল্পী শ্রী শ্যামল কুমার বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ অনেক পরিশ্রমের। প্রথমে কাঠামো তৈরি, এরপর খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করতে হয়। পরে মাটি শুকিয়ে গেলে রং ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়। শেষ মুহূর্তে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে আমাদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব।
উলিপুর উপজেলা শাখার শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার সরকার বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। পূজাকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জার কাজ প্রায় শেষের দিকে। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উপভোগ করতে পারেন সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হবে। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে পূজা শেষ হবে।

কুড়িগ্রাম শহরের শ্রী প্রদীপ কুমার বলেন, দুর্গাপূজা এলেই এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ দেখতে ভালো লাগে। আমরা চাই সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন করুক।
পুরোহিত জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মা এবারে ঘটকে (ঘোড়া) আসবেন। দুর্গার আগমনে ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘটের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে।
পূজার সব আচার-অনুষ্ঠান শাস্ত্রীয় বিধান মেনে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, পৃথিবী থেকে সব অশুভ শক্তির বিনাশ হোক ও সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি এবং মঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হোক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই যাতে নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারেন সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ
