Published on
:
2 min read
এই সময়: ট্রেনের কামরা কোনও ব্যক্তিগত বিনোদনের জায়গা নয়। সহযাত্রীদের অসুবিধের কথা না ভেবে স্পিকার অন করে ফোনে কথোপকথন, মোবাইলে রিল, সিনেমা কিংবা কার্টুন চালিয়ে রাখার বিরক্তিকর অভ্যেস রয়েছে বহু যাত্রীরই। তাতেই এ বার লাগাম টানতে উদ্যোগী রেল। ট্রেনের মধ্যে এবং স্টেশন চত্বরে জোরে মোবাইলের অডিয়ো বাজানো কিংবা উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলে অন্যদের বিরক্ত করলে গুনতে হতে পারে জরিমানা। পরিস্থিতি অনুযায়ী পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ছ’মাস পর্যন্ত কারাবাসও হতে পারে। রেলের এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে যাত্রাপথে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যেসে বদল আনতেই হবে যাত্রীদের।
সাদার্ন রেল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ডিভিশনকে এই বিষয়ে স্টেশনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রীদের সতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টিকিট পরীক্ষকদেরও। নির্দেশিকা অনুযায়ী, অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এক হাজার টাকা জরিমানা এবং ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই ধরনের উপদ্রব চলতে থাকলে জরিমানার অঙ্ক পাঁচ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ছ’মাসের কারাবাসের বিধানের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
রেলের বক্তব্য, দীর্ঘক্ষণ উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা, ক্রমাগত রিংটোন বাজতে থাকা কিংবা হেডফোন ছাড়া গান, ভিডিয়ো ও অন্যান্য অডিয়ো চালানো নিয়ে নিয়মিত প্রচুর অভিযোগ জমা পড়ছে। বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় এই ধরনের শব্দে যাত্রীদের সমস্যা বাড়ে। ট্রেন যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, মোবাইলে সিনেমা, টিভি সিরিয়াল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার রিল স্পিকার অন করে দেখার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। শিশুদের কার্টুনও অনেক সময় হেডফোন ছাড়া চালিয়ে রাখা হয়। এক জনের মোবাইলের শব্দে গোটা কামরার যাত্রীদের ঘুম, বিশ্রাম কিংবা পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।
২০১২–তেও রেল বোর্ড বিভিন্ন জ়োনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু সে বার বেশি কিছু করা যায়নি। এ বার নির্দেশিকা প্রচারের পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
রেলের পরামর্শ, যাত্রাপথে অডিয়ো শুনতে হলে হেডফোন ব্যবহার করতে হবে এবং ফোনে কথা বলতে হবে স্বাভাবিক স্বরে। সমস্যা হলে যাত্রীরা রেলকর্মীদের জানাতে পারেন অথবা রেলমদত ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগও দায়ের করতে পারেন। তবে শুধু নির্দেশিকা জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি, পর্যাপ্ত প্রচার এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত না হলে স্পিকারের শব্দদূষণ থামানো কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
