দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অটোগি করপোরেশনে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। দেশটির উমসংয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির দেপুং প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহের কথা জেনেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিউল থেকে পাঠানো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অংশ হিসেবে গত ২১ ও ২২ অক্টোবর বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক এবং কারখানা পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য প্রস্তুত খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে অটোগি করপোরেশন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সম্ভাবনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারি উপকরণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চুনবো কোম্পানিও বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় বর্তমানে ১৩২ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সেখানে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কর্মপরিবেশ, অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে চুনবো কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরও কর্মী নিয়োগের আগ্রহ জানায়। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা এইচআরডি কোরিয়ার সভাপতি লি বিয়ং-হুনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা (ইপিএস)-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানো, নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ করে তাঁদের সময়মতো দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া চংজু সিটি, উমসং কাউন্টি ও গাংহওয়া কাউন্টির মেয়রদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিদেশি মৌসুমি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। কৃষি খাতে শ্রমিকের চাহিদা পূরণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী অঞ্চলের সংখ্যা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গাংহওয়া কাউন্টির কর্মকর্তারা স্থানীয় কৃষি নিয়োগকর্তাদের কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
