ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের বিভিন্ন রণক্ষেত্রে চলমান লড়াইয়ে দুই শতাধিক হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এদিকে সংঘাতের কারণে শহরটির আট লাখের বেশি মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। তাইজ প্রদেশের একাধিক ফ্রন্টে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষে ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন আকাশযান, সামরিক যান ও ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে হুতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি দৃশ্যচিত্রে লোহিত সাগর উপকূলের ধুবাব বিমানবন্দরের কাছে কয়েকটি সামরিক যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সংঘাতকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে আট লাখের বেশি মানুষের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সেবার সংকট আরও বাড়তে পারে। ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোয় হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতিরা। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরের কয়েকটি তলায় আগুন ধরে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। সংঘাতের প্রভাবে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাতের মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে রিয়াদে বৈঠক করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে দুই নেতা সম্মত হয়েছেন। বৈঠকের সময় রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। এদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হুতিরা। তবে সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরকে এখনো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে তারা বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অনিশ্চয়তায় ওমরাযাত্রীরা
সংঘাতের কারণে সৌদি আরবে ওমরা পালন করতে যাওয়া অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। বিমানবন্দরে হামলার অভিজ্ঞতা এবং মুঠোফোনে পাওয়া নিরাপত্তা সতর্কবার্তা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের বিস্তার সৌদি যুবরাজের অর্থনীতি বহুমুখীকরণ এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনায় বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।