কলারোয়া(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি : উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে কলারোয়ার ৪৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হলো। বুধবার উপজেলার সকল পূজামণ্ডপে অঞ্জলি, আরতি ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীতে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য আয়োজন শেষে সন্ধ্যার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ছয় দিনব্যাপী এ উৎসব। এবার মহাসপ্তমী দুইদিনের হওয়ায় দুর্গাপূজার স্থায়িত্ব ছয় দিনের হয়। গত শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল শারদীয় দুর্গোৎসব। উপজেলার এবারের দুর্গোৎসবে ভক্তদের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো পৌরসভাধীন উত্তর মুরারিকাটির সাদা তিল ও দক্ষিণ মুরারিকাটির চুমকি দিয়ে গড়া দুর্গাপ্রতিমা। এই দুই প্রতিমা দর্শনে দূরবর্তী এলাকার ভক্তরাও ভিড় জমান। উত্তর মুরারিকাটি পূজামণ্ডপের দীপঙ্কর পাল ও দক্ষিণ মুরারিকাটি মণ্ডপের নির্মল মণ্ডল বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার তাদের মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। দুর্গোৎসবের এই ছয় দিনে খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা- ১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম, থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মিজানুর রহমান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করেন। প্রতিটি মণ্ডপে প্রদান করা হয় আর্থিক সহায়তা। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস (দেবু) জানান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব উপজেলার ৪৬ টি পূজামণ্ডপে পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম পৌরসভার আটটি মন্ডপের প্রত্যেকটিতে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন। এঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার উপজেলার সকল মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো থাকায় পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সমুন্নত ছিলো। সর্বোপরি আপামর মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসায় আনন্দঘন পরিবেশে এবারও দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে বলে উপজেলা কল্যাণ ফ্রন্টের এই নেতৃবৃন্দ বলেন।

