ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার পুরস্কার ‘সাখারভ পুরস্কার’ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করা আদালতটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে অকার্যকর করে দেয়ার হুমকি দেয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় আদালতটিকে মানবাধিকারবিষয়ক সর্বোচ্চ এই পুরস্কার দিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ সময় আইসিসির স্বাধীনভাবে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে এই সাখারভ পুরস্কার দেয়া হয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার করা এই আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য চলতি মাসে এটি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এর আগে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।
পুরস্কার ঘোষণার সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতটির গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।’
এদিকে পুরস্কারের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আইসিসি। আদালতটি বলেছে, এমন এক সময়ে এই সম্মাননা দেয়া হলো, যখন আদালত ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সাখারভ পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।’
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে আদালতটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় আদালতটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রোপাগান্ডা ও চাপ প্রয়োগের নীতি আরও জোরালো হয়।
আল জাজিরা বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ধাপে ধাপে আইসিসিকে অকার্যকর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রতি আদালতটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পঙ্গু করে দেয়ার লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণাও করেছে তারা।
আইসিসিতে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ব্যক্তির বিচার করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা এই বেপরোয়া আদালতের সঙ্গে কাজ করা নিষিদ্ধ করব। এর সম্পদ পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেব এবং আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব। আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণ এই ভুয়া আইসিসির এখতিয়ারের অধীন নয়।’
ওয়াশিংটন আইসিসির বিচারক ও কৌঁসুলিদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদক এবং আদালতে প্রমাণ সরবরাহ করা ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
খুলনা গেজেট/এনএম
