সাংগঠনিক বিস্তারের লক্ষ্যে দেবীপক্ষে আরও এক ধাপ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির। ১১টি সাংগঠনিক জেলায় নতুন জেলা কার্যালয় (পার্টি অফিস) তৈরির কাজে হাত দিল রাজ্যের শাসক দল। এ রাজ্যের অনেক জেলাতেই বিজেপি নিজস্ব কার্যলয় ভবন আগে তৈরি করেছিল। তবে বেশ কিছু জেলায় দলের কার্যালয় ভাড়া বাড়ি থেকে বা ছোট জায়গা থেকে চলত। কালক্ষেপ না করে সে সব জেলাতেও নিজস্ব ভবন তৈরির কাজ দুর্গোৎসবের তৃতীয়ায় শুরু করে দেওয়া হল। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলায় হল ভূমিপূজন।
উলুবেড়িয়া, আসানসোল, হুগলি, বহরমপুর, ব্যারাকপুর, কলকাতা উত্তর শহরতলি, ঝাড়গ্রাম-সহ মোট ১১টি জেলায় পার্টি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। তার জন্য মঙ্গলবার ভূমিপূজনের আয়োজন হয়েছিল। প্রত্যেকটি সাংগঠনিক জেলাতেই রাজ্য স্তরের কোনও পদাধিকারীকে পাঠানো হয়েছিল। সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল রাজ্য বিজেপির ‘ভবন নির্মাণ টিম’-এর কোনও না কোনও সদস্যকে। তবে আসানসোল সাংগঠনিক জেলার পার্টি অফিসের জন্য ভূমিপূজনে হাজির ছিলেন খোদ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য উলুবেড়িয়ার ভূমিপূজনে হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী। ছিলেন ‘ভবন নির্মাণ টিম’-এর সমন্বয়ক তথা রাজ্য বিজেপির যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ বিদ্যাসাগর মন্ত্রীও। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী হাজির ছিলেন চুঁচুড়ায়। সেখানে হুগলি জেলা কার্যালয়ের ভূমিপূজন হয়েছে। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক মনোজ পাণ্ডে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার হাজির ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার ভূমিপূজনে। তাঁর সঙ্গে রাজ্য বিজেপির আর এক সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় ছিলেন। আর বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলার জন্য যে পার্টি অফিস তৈরি হবে, তার ভূমিপূজনে ডাক পড়েছিল রাজ্য বিজেপির আর এক প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল সিংহের। রাহুলের পাশাপাশি সেখানে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভানেত্রী মধুছন্দা করও। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলায় পাঠানো হয়েছিল রাজ্য বিজেপির অন্যতম সহ সভাপতি রামপদ দাসকে।
শুধু ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলায় ভূমিপূজনের কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানকার কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর। কিন্তু সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী সমিতির সদস্য হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে মঙ্গলবার দিল্লিতে যেতে হয়েছে। তাই ঝাড়গ্রামে নতুন দলীয় কার্যালয়ের জন্য ভূমিপূজনের কাজ দু’দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবর অর্থাৎ পঞ্চমীতে ঝাড়গ্রামের ভূমিপূজন হবে বলে বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সুনীল বনসল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এ রাজ্যে সংগঠনকে একেবারে বুথ স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে বিজেপি মন দিয়েছিল। সে কাজ ১০০ শতাংশ ত্রুটিমুক্ত ভাবে করা যাক বা না যাক, সাংগঠনিক বিস্তার যে ঘটেছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু দল এ রাজ্যে ক্ষমতাসীন হয়েছে বলেই সংগঠন নিয়ে আর বেশি চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই, এমনটা বিজেপি মনে করছে না। বরং ক্ষমতায় থাকাকালীন সংগঠনকে বিজেপি আরও বেশি মজবুত করে তুলতে চাইছে। প্রত্যেক জেলায় নিজস্ব এবং সুপরিসর পার্টি অফিস দ্রুত গড়ে নেওয়ার উদ্যোগও সেই লক্ষ্যেই।
রাজ্য বিজেপির অন্যতম সহ সভাপতি প্রবাল রাহার কথায়, ‘‘আমাদের দল এ রাজ্যে এখন বড় হয়েছে, কাজের পরিসরও বেড়েছে। সুতরাং ভাড়া বাড়ি থেকে অপরিসর জায়গা থেকে কাজ চালানো আর সম্ভব হচ্ছিল না।’’ দলীয় দফতরের নকশা কেমন হবে, সেখানে কী ধরনের পরিকাঠামো থাকতে হবে, এ নিয়ে বিজেপির নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও রয়েছে। প্রবালের কথায়, ‘‘একটা পার্টি অফিসে ওয়েটিং রুম, মিটিং রুম, কনফারেন্স রুম, প্রেসিডেন্ট’স রুম দরকার হয়। আরও অনেক কাজের জন্য আলাদা আলাদা ঘর দরকার হয়। সে বিষয়ে দলের নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও রয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুসরণ করেই প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলায় আমরা নিজেদের অফিস তৈরি করছি।’’
