কথাসাহিত্যিক শফিক রিয়ানের নতুন উপন্যাস ‘প্ররোচক’। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, অপরাধের নেপথ্য রহস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাসটি ক্রাইম থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের জন্য নিয়ে আসছে ভিন্নধর্মী এক আখ্যান।
উপন্যাসটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তিন তরুণকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার একটি ভয়াবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হত্যাকাণ্ডের ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি পরিচিতি পায় ‘দ্য বার্নিং ট্রায়ো’ নামে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এগিয়ে যায় উপন্যাসের গল্প।
‘প্ররোচক’-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র আমেরিকা-ফেরত ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজিস্ট ড. ইশরাক। তার ধারণা, স্রেফ চুরির অপবাদে তিন তরুণকে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে হত্যার পেছনে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। নিহত তরুণ কৌশিকের বাবা, প্রভাবশালী ব্যাংকার বিপুল চৌধুরীর অনুরোধে রহস্যটির অনুসন্ধানে নামেন তিনি। তার সঙ্গে যুক্ত হন আরিফ। তদন্ত যত এগোয়, ততই উন্মোচিত হতে থাকে অপরাধের জটিল মনস্তত্ত্ব ও অন্ধকার জগতের নানা স্তর। অপরাধীকে শনাক্ত করার পাশাপাশি অপরাধের পেছনে থাকা উদ্দেশ্য ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করাই তার অনুসন্ধানের বিশেষ দিক।
লেখক শফিক রিয়ানের এই উপন্যাসে গণমানুষের উন্মত্ততা, ঘৃণা, সহিংসতা এবং অপরাধের পেছনে কাজ করা প্ররোচনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কী ঘটেছিল এই প্রশ্নের পাশাপাশি কেন ঘটেছিল তার উত্তর অনুসন্ধানই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
নবকথন প্রকাশনী থেকে আগামী মাসে প্রকাশিত হবে। ‘প্ররোচক’ শফিক রিয়ানের কথাসাহিত্যে নতুন সংযোজন। লক্ষাধিক শব্দের এই উপন্যাসে রহস্য, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও অপরাধ অনুসন্ধানের সমন্বয় পাঠকদের জন্য কতটা নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করে, এখন সেই অপেক্ষা। উপন্যাসটির প্রচ্ছদ করেছেন পরাগ ওয়াহিদ। লক্ষাধিক শব্দের এই উপন্যাসটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা।
