সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জমায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রাহমান। গতকাল সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে
এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
সাম্প্রতিক এ ঘটনা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলাদেশের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। তাদের প্রবাসজীবনের নানাবিধ সমস্যা নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
আমির তার পোস্টে লেখেন, প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি দেশের মর্যাদা ও স্বার্থরক্ষার জন্যই বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট রয়েছে। এ অবস্থায় ওই দুই বাংলাদেশির বিচারিক প্রক্রিয়ায় দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা জানার বিষয়। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য থেকে এ নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। তারা বলেছেন, দণ্ড কার্যকরের পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
আমির আরও লেখেন, প্রতিটি দেশ তার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। তবে ওই দুই প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ বিষয়ে দূতাবাস দায়িত্ব পালন করেছে কিনা, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে।
জামায়াত আমির লেখেন, যে অপরাধে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে, এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামান্য পরিমাণেও থাকলে তা প্রতিরোধে সরকার বা দূতাবাসের কী উদ্যোগ রয়েছে, সেটিও জানার বিষয়। এ ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি আরও লিখেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রবাসী যাতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দূতাবাসের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের মর্যাদা রক্ষার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতন করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার চেয়ে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করাই সবার জন্য উত্তম। যা ভালো, তা-ই বিকশিত হোক।
