‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে লালমনিরহাটে চরাঞ্চলের কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৬০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। চরাঞ্চলের কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহায়েল আহমেদ খন্দকার। প্রশিক্ষণ প্রদান ও আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) প্রণয় কুমার বিষান দাশ, সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান রনি এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন নয়ন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহায়েল আহমেদ খন্দকার বলেন, চরাঞ্চলের অনাবাদি ও পতিত জমি আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে লাভজনক ফসলের উৎপাদন বাড়ানোই কৃষি বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে চরাঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশের উপযোগী ফসল উৎপাদনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রশিক্ষণের আলোচক প্রণয় কুমার বিষান দাশ চরাঞ্চলে আধুনিক বালাই ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফলন বাড়ানো সম্ভব।
কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাত নির্বাচনের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান রনি বলেন, চরাঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়া সহনশীল ও উচ্চফলনশীল জাতের ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা জরুরি। আধুনিক সেচব্যবস্থা ও কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অন্যদিকে, ফসল ব্যবস্থাপনা, সংগ্রহ-পরবর্তী সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন নয়ন। তিনি বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি ফসলের সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফসলের অপচয় কমানো গেলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেতে সহায়তা পাবেন।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, শস্য বহুমুখীকরণ, জৈব সার প্রয়োগ এবং উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষাবাদে ব্যয় সাশ্রয় এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
The post লালমনিরহাটে চরাঞ্চলের ৬০ কৃষক-কৃষাণীকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ appeared first on ভোরের চেতনা.
