মুফতি খালিদ কাসেমি
মানবজীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে সৎ, বৈধ ও হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! আমি তোমাদের যেসব পবিত্র বস্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো—যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)
ইবাদতের পাশাপাশি জীবিকা অন্বেষণকে ইসলাম অন্যতম মৌলিক কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ ইবাদতসমূহের পর হালাল উপার্জনের চেষ্টা করাও একটি ফরজ দায়িত্ব।’ (শুআবুল ইমান: ৮৩৬৭)
শরীরের ঘাম ঝরিয়ে ও শ্রম দিয়ে অর্জিত জীবিকাকে ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিক বলে অভিহিত করেছে। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিজ হাতের উপার্জিত খাবারের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (সহিহ বুখারি: ২০৭২)
বর্তমান অর্থকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী সমাজে দ্রুত ধনবান হওয়ার মোহ মানুষকে অন্যায়, সুদ, ঘুষ, ভেজাল ও দুর্নীতির মতো হারাম পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ সামান্য হারাম উপার্জনের কারণে পরকালের অনন্ত জীবন বরবাদ হওয়ার পাশাপাশি দুনিয়ার বরকতও নষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে অল্প হালাল উপার্জনেই রয়েছে প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি ও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রভূত বরকত।
তাই পার্থিব সাময়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে প্রতিটি মুমিনের উচিত সততা, নিষ্ঠা ও হালাল পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ করা। কারণ, হালাল উপার্জন মুমিনের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে সফলতা লাভের অন্যতম চাবিকাঠি।

