প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘এই পৃথিবী পাখিদের হোক’ শিরোনামে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেছে গাকৃবি বন্ধুসভা। পাখির নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২৪ অক্টোবর গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। বন্ধুরা হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষের মধ্যে পাখি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টারের মাধ্যমে পাখি শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও অবৈধ বাণিজ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে পাখি ও অন্যান্য বন্য প্রাণী সংরক্ষণে প্রচলিত আইনের বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন করেন তাঁরা।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পাখি শিকার ও অবৈধ বাণিজ্যের কারণে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহনশীল আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন আয়োজকেরা।
এ ছাড়া শীত মৌসুমে জলাশয়ের পানি কমে যাওয়া এবং নিরাপদ পানির সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাখিদের জন্য পানির ব্যবস্থা করা হয়। উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মাঠ, প্রশাসনিক ভবন, লেক ভিউ স্টাডি পার্ক, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, বিভিন্ন গবেষণার মাঠসহ ক্যাম্পাসের পাখির বিচরণের উপযোগী মোট ৩০টি স্থানে পানির পাত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাখিদের জন্য নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃতি ও বন্য প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে।

গাকৃবি বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ শুধু কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একার দায়িত্ব নয়; বরং এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। পাখি শিকার ও অবৈধ বাণিজ্য থেকে বিরত থাকা, পাখির আবাসস্থল রক্ষা করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
বন্ধু, গাকৃবি বন্ধুসভা
