শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়, নদী, ঝরনা, স্বচ্ছ জলধারা ও সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের আগমনে জমজমাট হয়ে উঠেছে জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলসহ উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। ছুটির অবকাশে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আসেন তাঁরা। পাহাড়, পাথর ও স্বচ্ছ জলধারার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।
উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘প্রকৃতির কন্যা’ জাফলংয়ে পর্যটকদের সমাগম ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই তাঁদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মেঘালয়ের পাহাড়, ঝরনা ও ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। কেউ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখেন, আবার কেউ নৌকায় চড়ে খাসিয়া পল্লি ও চা-বাগান ঘুরে দেখেন।
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন দোকানের কর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা ছুটিকে ঘিরে অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। রেস্তোরাঁগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। পাশাপাশি ফটোগ্রাফার, প্রসাধনসামগ্রীর দোকানি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষের ব্যস্ততাও বেড়েছে। পর্যটকদের আগমনে ব্যবসা ভালো হওয়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রায় সব হোটেল-মোটেল আগাম কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ভালো রোজগার করতে পারছেন। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন সে দিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে এ বছর জাফলংয়ে প্রচুর পরিমাণ পর্যটক এসেছেন। সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়ীরাও ভালো ব্যবসা করতে পারছেন।’
বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে জাফলংয়ে এসেছি। এখানকার পাহাড়, পানি ও ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে ভীষণ ভালো লাগছে।’
এদিকে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এমএ
