The Sangbad · সাধারণ
বিলুপ্তির মুখে ১০ লাখ প্রজাতি: জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান গুতেরেসের
১৬/১০/২০২৬

জলবায়ুর বিপর্যয়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং অতিরিক্ত সারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পৃথিবী ক্রমেই মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। এই ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস এবং জলবায়ু বিশৃঙ্খলার ফলে বিশ্বের ১০ লাখের বেশি প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি এখন বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর আর্মেনিয়ার ইয়েরেভেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত 'কপ-১৭' সম্মেলনকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।বিশ্বের বর্তমান পরিবেশগত সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, "চার বছর আগে সম্মত হওয়া কুনমিং-মন্ট্রিল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্ধেকের বেশি দেশ এ বিষয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে। ২০২২ সালের পর থেকে অতিরিক্ত ১৩ লাখ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগ এবং ৬০ লাখ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত এলাকার আওতায় এসেছে।"তবে এই অগ্রগতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশগুলো তাদের বর্তমান অঙ্গীকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর মাত্র ২৬ শতাংশ স্থলজ বাস্তুতন্ত্র এবং ১২ শতাংশ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষিত হবে। অথচ বৈশ্বিক কাঠামোর লক্ষ্য হলো ওই সময়ের মধ্যে বিশ্বের স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ করা।"অর্থনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে গুতেরেস আরও যোগ করেন, "অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডে প্রণোদনা কমানোর বিষয়ে দেশগুলোর অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়। অর্থায়ন, কারিগরি সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যে ২০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের বিষয়ে সম্মত হওয়া হয়েছিল, বর্তমানে এর অর্ধেকেরও কম অর্থায়ন রয়েছে। জীববৈচিত্র্যের সংকটকে সংঘাত, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, রোগের ঝুঁকি কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এসব সংকটের যেকোনো একটির সমাধান করতে হলে সব কটির মোকাবিলা করতে হবে। আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।"
সংকট উত্তরণে সরকারি পর্যায়ে দায়িত্বশীল নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, "কঠিন সত্য হলো, আমরা ভুল খাতে অর্থ ব্যয় করছি। আমি সব দেশের সরকারকে এসব খাতে ভর্তুকি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া চিরতরে বন্ধ করার এবং সেই অর্থ মানুষ ও পৃথিবীর কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি।"পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বেসরকারি খাত ও সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, "শুধু সরকারের পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশের অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় বোঝা প্রায়ই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপর পড়ে, অথচ সমস্যাটি সৃষ্টিতে তাদের অবদান সবচেয়ে কম। কিন্তু সমাধানও প্রায়ই এই জনগোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকেই আসে।"জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে নিজের মেয়াদের শেষ প্রান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হতে ৭৬ দিন বাকি। এই মুহূর্তে যে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন, আসুন আমরা তা গ্রহণ করি-আমাদের সন্তানদের জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এবং পৃথিবীর সব প্রাণের জন্য।"
মূল প্রতিবেদনে যান ↗