সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন তিনি।
সেখান থেকে হেঁটে নলিয়ান কোস্ট গার্ডের পন্টুনের দিকে যান। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান সরকারপ্রধান। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
পথে অনেকের সঙ্গে হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী। কারও মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, আবার কাউকে কাছে পেয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজীর সঙ্গেও হাত মেলান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি রাজু।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাজু গাজী বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি কার সঙ্গে কথা কলাম, আমার জীবন সার্থক। বাদাম বেচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাইছি, আর কী লাগে।’
প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর পেয়ে তার সঙ্গে একবার হাত মেলানোর আশায় নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়েছিলেন এই বাদাম বিক্রেতা। তার সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি।
রাজু আরও বলেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। আমার খুব ভালো লাগছে।’
এ সময় খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দাকোপ সফরের এই অনুষ্ঠানটি পাবলিক ছিল না। এখানে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। যাওয়া-আসার পথে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তার এই আগমনের মধ্য দিয়ে খুলনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে বলে আশা করি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর পৌনে ১টার দিকে মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুপুর পৌনে ৩টায় মোংলা বন্দর জেটি পরিদর্শন ও পরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। বিকাল সোয়া ৫টায় তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা সমুদ্রবন্দর ত্যাগ করেন।