একসময় বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের লড়াই মানেই ছিল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি লড়াই শুধু মাঠের পাশাপাশি ফুটবলবিশ্বের আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু সেই দুই মহাতারকার যুগ পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, এল ক্লাসিকো কি আগের মতোই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ?
আজ রোববার বার্সেলোনার মাঠে মুখোমুখি হবে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি। ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বার্সেলোনা জিতলে লা লিগার শীর্ষে তাদের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের ব্যবধান দাঁড়াবে নয় পয়েন্টে।
এবারের দ্বৈরথে নজর থাকবে লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপের দিকে। বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত দুই ফুটবলারকে ঘিরে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।
প্রিমিয়ার লিগের উত্থান কি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
বিশ্ব ফুটবলের দর্শক আকর্ষণে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এখন বড় শক্তি। সম্প্রচার, প্রচারণা ও ম্যাচের ধারাবাহিক উত্তেজনা লিগটিকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের শিরোপার লড়াইয়ের দর্শকসংখ্যা প্রিমিয়ার লিগের এই জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে সম্প্রচারস্বত্ব ও সম্প্রচারমাধ্যম নিয়ে পরিবর্তনের কারণে লা লিগাকে বিভিন্ন সময়ে নতুন করে দর্শক আকর্ষণের কৌশল নিতে হয়েছে। ইংরেজি ভাষাভিত্তিক বৈশ্বিক বাজারেও প্রিমিয়ার লিগের সুবিধা রয়েছে। ফলে এল ক্লাসিকোর গুরুত্ব অটুট থাকলেও বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় একচ্ছত্র অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।
ইউরোপের সেরা দুই দল কি এখনো তারাই?
বার্সেলোনা হান্সি ফ্লিকের অধীনে আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ফুটবল খেলছে। তবে রক্ষণভাগের দুর্বলতা তাদের বড় ম্যাচে ধারাবাহিক সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় সাফল্য পেলেও রিয়াল মাদ্রিদকে ঘিরে কৌশলগত স্থবিরতার প্রশ্ন উঠছে।
এখানেই এল ক্লাসিকোর নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ। শুধু অতীতের গৌরব কিংবা তারকাদের নাম দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ আকর্ষণ হয়ে থাকা সম্ভব নয়। প্রয়োজন মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইউরোপীয় সাফল্য এবং দর্শকদের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরি করা।
লা লিগা
বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ
সরাসরি, রাত ২টা
টি স্পোর্টস, ফ্যানকোড
