বান্দরবানের থানচি-তিন্দু সড়কে পর্যটকবাহী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সড়কটি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফয়সালের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে তিন্দুবাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটি থানচি-তিন্দু সড়ক নামে পরিচিত। আলীকদম থেকে তিন্দুবাজার, বড় পাথর, রেমাক্রী ও নাফাখুমে যেতে পর্যটকেরা এ সড়ক ব্যবহার করেন। তবে এখন আর সম্ভব হবে না। আলীকদম থেকে যাঁরা এ জায়গায় যেতে চান তাঁদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে। এ কারণে ঘুরতে হতে পারে ১৮ কিলোমিটার বাড়তি পথ।
বান্দরবানের তিন্দু পর্যটকদের জন্য অন্যতম এক আকর্ষণীয় জায়গায়। এতে চারদিকে বিশাল সবুজ পাহাড় আর মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু বা শঙ্খ নদ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে তিন্দু গ্রাম ও বাজার। বর্ষা ও শরৎকালে এখানকার পাহাড়ে মেঘ দেখতে অসংখ্য পর্যটক ছুটে যান।
থানচি-তিন্দু সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি ৫ অক্টোবর এ সড়কে পর্যটকবাহী একটি গাড়ি গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে দুই পর্যটক নিহত ও পাঁচজন আহত হন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও তা অসমাপ্ত রেখেছে।
সড়কের আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার পয়েন্ট ও তিন্দুবাজার অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে মাঝের অংশ এখনো কাঁচা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশলীদের দাবি, বরাদ্দের ঘাটতির কারণে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি।
উপজেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে তিন্দুবাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সড়কটি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
