এসআইআরের মাধ্যমে ভোট চুরি হয়েছে। এটাই প্রধান অভিযোগ কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির। এর প্রতিবাদেই সোমবার পদযাত্রা করে শীর্ষ আদালতে পিটিশন দায়ের করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই পিটিশনে ১৪টি ত্রুটি রয়েছে। সোমবার রাতে এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, পিটিশন বাবদ যে কোর্ট ফি লাগে তা-ও কম দেওয়া হয়েছে। ২২০ টাকার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির তরফে এই ত্রুটিগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, পিটিশনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু আইনি নথি সংযুক্ত নেই, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি স্পষ্ট নয়। এছাড়া কিছু নথির হরফের আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র হওয়ার মতো ত্রুটি ধরা পড়েছে। পাশাপাশি, দু’টি নির্দিষ্ট নথির রঙিন প্রতিলিপি জমা দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রি। শুধু তাই নয়, অস্পষ্ট লেখা, পৃষ্ঠা বাদ পড়া, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা এবং কয়েকটি পৃষ্ঠার নম্বরের অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি খাড়গের পরিচয়পত্রের একটি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য প্রতিলিপি চেয়েছে। এছাড়া, ৩ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ‘ওকালতনামা’ জমা না দেওয়ার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছে।
বলে রাখা ভালো, রাহুলদের জমা দেওয়ার পিটিশন নির্বাচন কমিশনের নেওয়া এসআইআর ও অন্যান্য সিদ্ধান্তের বিষয়ে দশ ধরনের প্রতিকার দাবি করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, আগাম নোটিস না দিয়ে এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়ে যেন কোনও ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া না হয়। পঞ্জাব-সহ যে রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, সেখানে যোগ্য ভোটাররা যাতে আইন অনুযায়ী শেষ তারিখ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে – বুথভিত্তিক ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নাম, নাম বাদ দেওয়ার কারণ এবং তাঁদের লিঙ্গ ও বয়সের বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ ইত্যাদি। পাশাপাশি, যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা চালুরও আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজপথে প্রবল জনস্রোতের কারণে এদিন সময় মতো (বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে) সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছতে পারেননি রাহুল গান্ধী। যদিও তাঁর হয়ে সর্বোচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী এস প্রসন্ন। সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিশাল পদযাত্রায় রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরজেডি-র তেজস্বী যাদব ছাড়াও ছিলেন একাধিক বাম নেতা। রাহুলের পাশাপাশে হাঁটতে দেখা গিয়েছে নেহা বোরাকে।
