রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেয়াল ভাঙচুর, চার দোকানে তালা ও মালামাল লুটের অভিযোগ!
-
আরিফ হোসেন (রায়পুর) লক্ষ্মীপুর - আপডেট সময় ০২:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দেয়াল ভাঙচুর, চারটি দোকানে তালা দেওয়া এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা নির্ধারণে আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত ও পরিমাপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর মৌজায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টার দিকে আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা নির্ধারণে সরেজমিনে তদন্ত ও পরিমাপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেন, বয়স ৩৮ বছর, পিতা মৃত শফিক। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ দলিলপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। এ জমি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার পরিমাপ ও আইনি কার্যক্রম হয়েছে। এমনকি আদালত থেকেও তাঁরা নিজেদের পক্ষে রায় পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপরও প্রতিপক্ষ জমিটির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তাঁর। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ৪০ ও ৫৯ নম্বর দাগের জমি ফাতেমা আক্তার জুতির কাছ থেকে ২০২৫ সালে ক্রয় করেন প্রবাসী আনোয়ার হোসেন। জমি ক্রয়ের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাঁরা মালিকানা দাবি করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, নাজিমউদ্দিন পিন্টু ও আক্তার হোসেনের নামে ওই দাগে কোনো জমি নেই। তারপরও তাঁরা জমিটির মালিকানা দাবি করছেন এবং সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, বয়স ৬০ বছর, পিতা মৃত তোফায়েল পাটোয়ারী, বলেন, জমিটি ভুক্তভোগীর কেনা সম্পত্তি। তাঁর মতে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে দলিলপত্র, দাগ-খতিয়ান এবং আদালতের নথি যাচাই করা জরুরি। জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে ভুক্তভোগী পক্ষের দেয়াল ভেঙে ফেলা, চারটি দোকানে তালা লাগানো এবং দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার পরও দোকান ও মালামাল নিয়ে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে রায়পুর থানার এসআই জসিমকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে দেয়াল ভাঙা এবং চারটি দোকানে তালা দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়। তবে দেয়াল ভাঙচুর, দোকানে তালা দেওয়া এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দেয়াল ভাঙার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় প্রতিপক্ষের উম্মে সালমা দাবি করেন, দেয়ালটি নিজে থেকেই ভেঙে পড়েছে। তবে দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার পর দেয়ালটি হঠাৎ কী কারণে ভেঙে পড়লÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে দেয়াল ভাঙার প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে ভাঙচুরের জন্য দায়ী করা যায় না; বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ফাতেমা আক্তার যুথি দাবি করেন, তাঁরা প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং সেখানে তাঁদের দোকানপাট রয়েছে। আদালতের কমিশনারের সরেজমিন তদন্ত বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে রায়পুরের দেওয়ানি আদালতে ২১৮/২০২৬ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে। মামলায় আনোয়ার হোসেন গং বাদী এবং নাজিমউদ্দিন পিন্টুসহ অন্যরা বিবাদী হিসেবে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের কমিশনার তারেক হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমিটি সরেজমিনে তদন্ত ও পরিমাপ করতে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমির পরিমাপ ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় জমির সীমানা নির্ধারণের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে জমির মালিকানা, সীমানা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি-আপত্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের নথি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জমি নিয়ে বিরোধ, ভাঙা দেয়াল, তালাবদ্ধ দোকান এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। দেয়াল ভাঙার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হলে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।এ ঘটনায় জনমনে একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিপক্ষ যদি জমিটির মালিকানা দাবি করে, তাহলে সেই দাবির পক্ষে কী কী দলিলপত্র রয়েছে? আর দেয়ালটি যদি স্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়ে থাকে, তাহলে এর প্রকৃত কারণ কী? একই সঙ্গে চারটি দোকানে তালা দেওয়া এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ভুক্তভোগীর দাবি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, জমির চৌহদ্দি অনুযায়ী প্রতিপক্ষের সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট দাগে না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জমির সীমানা নির্ধারণ, দোকানপাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেয়াল ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ট্যাগস :
