Published on
:
2 min read
নতুন করে হিংসার আগুন ছড়াল মণিপুরে। সেখানে পুড়ল অন্তত ২৮টি বাড়ি। সন্দেহভাজন জঙ্গিরা নাগা ও কুকি—দুই সম্প্রদায়ের বাড়িতেই হামলা চালায়। মণিপুরের কামজং জেলায় এই হামলার পরে সেখানে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাসিন্দারা অনেকেই আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে কাছে জঙ্গল এলাকায় নিকটবর্তী সেনা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। রবিবার,কামজং (Kamjong) জেলায় বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পাশপাশি গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ২ জন। উরখুল জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হন তাঁরা।
সেপ্টেম্বর মাসেই মায়ানমার সীমান্তে থাকা মণিপুরের গ্রামগুলিতে একাধিক হামলা হয়। পর পর হামলায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। এই জাতীয় হামলা রুখতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন আধিকারিকরা। তবে, এর পরেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার, মায়ানমার সীমান্তের কাছে থাকা পিলং (Pilong) এবং স্কাইপে (Skipe) গ্রামে হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। সেখানে নাগা উপজাতির লোকজনের পরিত্যক্ত অন্তত ১৩টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
অন্য দিকে, চাসাদ (Chassad) গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কুকি উপজাতির অন্তত ১৫টি বাড়ি। এর পরেই আতঙ্কিত বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে জঙ্গলে এবং সেনা শিবিরে আশ্রয় নেন। আগের দিনেই ওই এলাকায় হামলায় কুকি উপজাতির এক বাসিন্দা নিহত এবং চার জন আহত হন।
সূত্রের খবর রবিবার, উরখুল জেলার লিটন থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন গাড়িতে থাকা দু'জন নাগরিক। ২০২ নম্বর ন্যাশনাল হাইওয়েতে গোয়ালতাবি (Gwaltabi) ও মহাদেবের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। শনিবার রাতেও কামজং জেলায় পৃথক একটি হামলায় গুলিবিদ্ধ হন তাংখুল নাগা উপজাতির তিন জন।
এই হামলার পরে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন (Nemcha Kipgen)। ওই এলাকায় বিশেষ নজর চালাচ্ছে অসম রাইফেলস এবং BSF বলেও জানিয়েছে কামজং পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নাগা এবং কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দু'পক্ষের এই সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
