Published on
:
2 min read
ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে দুর্গাপুজোর ছন্দ। টাইমস স্কোয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই বছরের ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গোৎসব, এটা দ্বিতীয় বর্ষ। পুজোর সঙ্গেই ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দু’দিনের এই উৎসবের মধ্য দিয়েই নিউ ইয়র্কে মিলেছে শারদোৎসবের আমেজ।
প্রবাসী বাঙালিদের কাছে দুর্গাপুজো মানে নস্ট্যালজিয়া। পাড়ার প্যান্ডেল, মন্ত্র-অঞ্জলি, ভোগ থেকে শুরু করে পুজোর আড্ডা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের বাইরে এগুলির স্বাদ পাওয়া যায় না। কিন্তু সেই বাঙালিয়ানা যাতে বিদেশের মাটিতেও অমলিন থাকে। সেই কারণেই টাইমস স্কোয়ারের মঞ্চে এই আয়োজন। ভক্তি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ে ওঠা এই উৎসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান নানা দেশের মানুষ।
১০ অক্টোবরের শুভেচ্ছাবার্তায় নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এই উৎসবকে স্বাগত জানিয়েছেন। শহরের শিল্প, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতীয়দের অবদানের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর বার্তায় সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, অন্তর্ভুক্তি এবং সমাজের মানুষের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, উৎসবের সাফল্য ও উদ্যাপনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেয়র।
সকাল ১১টায় চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে শনিবারের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘গানে স্তোত্রে মহালয়া’ এবং মহীতোষ তালুকদার তাপসের পরিচালনায় মহালয়ার গানের সমবেত পরিবেশনা ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পুরোহিত প্রভাস চক্রবর্তী বোধন, অধিবাস, ষষ্ঠী ও সপ্তমীর পুজোর আচার সম্পন্ন করেন। বিকেল ৩টেয় পুষ্পাঞ্জলি এবং তার পর প্রসাদ বিতরণের আয়োজন ছিল।
আমেরিকায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজো উদ্যাপন করে আসা ছ’টি সংগঠনকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। বিদেশের মাটিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলার এই ঐতিহ্যকে যাঁরা ধরে রেখেছেন, তাঁদের অবদানকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে।
শনিবার বিকেল ৫টায় মৃদুল পাঠকের সভাপতিত্বে এবং ড. কল্লোল বসুর সঞ্চালনায় একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নাগরিক, কূটনৈতিক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও থাইল্যান্ডের কনসাল জেনারেল, প্রিন্স মারিও-ম্যাক্স শাউমবুর্গ-লিপে, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি অশোক রক্ষিত, NABC 2026-এর আহ্বায়ক মিলন আওন এবং সমাজকর্মী জয়প্রকাশ বিশ্বাসের উপস্থিত ছিলেন। এর পরে সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ৬০ জনেরও বেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে নৃত্যনাট্য ‘দশ মহাবিদ্যা’ পরিবেশন করেন নৃত্যাঞ্জলি। সন্ধ্যা ৭টায় মেখলা দাস গুপ্ত ও তাঁর দলের সঙ্গীত পরিবেশনা দিয়ে শেষ হয় শনিবারের অনুষ্ঠান।
রবিবার সকাল ১০টায় মহাষ্টমী, মহানবমী, বিজয়া দশমী ও বিসর্জনের পুজোর আচার দিয়ে শুরু হয়েছিল দিনের কর্মসূচি। ধুনুচি নাচ এবং সিঁদুর খেলার আয়োজন ছিল। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল ‘প্রেমের বৃন্দাবন’ ও ‘জয় মা দুর্গা’। দিয়াশিনী রায় ও তাঁর দলের পরিবেশনার পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টায় জোজো মুখোপাধ্যায় ও তাঁর দলের সঙ্গীতানুষ্ঠানও ছিল। দু’দিনের এই উৎসব বিশ্বের অন্যতম পরিচিত জনপরিসর টাইমস স্কোয়ারকে পরিণত করেছে বাংলার শারদোৎসবের এক মিলনমঞ্চে।