ভিক্ষা করেই চলে জীবন। দুই পায়ে চলার শক্তি নেই, লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে মানুষের দ্বারে হাত পাতেন প্রতিবন্ধী আব্দুল জলিল। কেউ দেন পাঁচ টাকা, কেউ দশ। কখনো জোটে খাবার, কখনো কাটে অনাহারে। সেই কষ্টের সঞ্চয়ও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেল না।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর এলাকায় নিজের কুঁড়েঘরে একাই থাকতেন জলিল। রাতে ঘুমের মধ্যে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেটে তার জমানো চাল ও সামান্য টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় জলিল। বহুদিনের কষ্টে জমানো চাল ও অল্প কিছু টাকাই ছিল তার বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই সম্বল হারিয়ে তিনি আরো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গত শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন জলিলের বাড়িতে যান। তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন জলিল। শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এই মানুষের আপন বলতে রয়েছেন শুধু এক বোন। তিনি এসে রান্না করে খাইয়ে যান। আর বাকি সময় লাঠিতে ভর দিয়েই জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন জলিল।
এলাকাবাসীর মতে, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের ঘর থেকে তার বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু চুরি করে নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। যিনি নিজেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারেন না, তার সামান্য সম্পদটুকুও নিরাপদ নয়।
আনিসুর রহমান তালুকদার আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও জলিলের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তার বসবাসের কুঁড়েঘরটি পাকা করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে যখন চোখের জলে দিন কাটছিল জলিলের, তখন এই সহায়তা তার মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন অসহায় এ মানুষটির প্রত্যাশা, মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি ঘর আর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।
