বছরের শুরুতে, জানুয়ারিতে বিপুল দাম উঠেছিল সোনার। তা এখন অতীত। বরং বলা যায়, রেকর্ড গড়ার পর থেকে ছবিটা পালটাতে শুরু করেছে। হু হু করে কমছে সোনার দাম। বর্তমান পরিস্থিতি যা, উৎসবের মরশুমে গয়নার বাজারের পরিস্থিতিতে স্বস্তি পাচ্ছেন গ্রাহকরা। সামনেই ধনতেরাস। রয়েছে করওয়া চৌথ, দিওয়ালির মতো উৎসবও। মনে করা হচ্ছে, সোনা-রুপোর দর এভাবে পড়তে থাকায় ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মারার এটাই সেরা সময়। কিন্তু সত্যিই কি তাই?
হিসেব বলছে, কলকাতায় আজ ২৪ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৫৮০ টাকা। অন্যদিকে রুপোর কেজি প্রতি ভর ২২০ টাকা। আগামিদিনে এই দর আরও কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন এই পতন? আসলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরেই আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ এগুলোর বিপরীতে কোনও সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না।
কিন্তু সত্যিই কি এই সময়ে সোনা-রুপোয় বিনিয়োগ করা উচিত হবে? কিন্তু বিশেষজ্ঞরা তাড়াহুড়ো করতে বারণ করছেন। কেননা সোনা-রুপোর দরের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতির উপরে, তাই দাম ঠিক কতটা নিচে নামতে পারে তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ফলে এখনই খুব বেশি সোনা না কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং ধনতেরাস বা দিওয়ালি উপলক্ষে অল্পবিস্তর সোনা কিনে রাখা যেতে পারে। কিন্তু একবারে বেশি সোনা কিনলে পরে যদি দাম আরও পড়ে তখন আখেরে লাভের বদলে তা ক্ষতি হিসেবেই ধরতে হবে। এছাড়া ক্রেতাদের গয়না তৈরির খরচ তথা মেকিং চার্জ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। কারণ তা গয়নার চূড়ান্ত মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে। সুতরাং দাম যতই পড়ুক ধৈর্য ধরাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
