পাবনা পৌরসভার নূরপুর চারমাথা মোড়ে অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের বসতবাড়ি ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ১৪–১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে; এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
পাবনা পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর চারমাথা মোড় এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের বসতবাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্রসহ সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন, পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাবনা জেলা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ।
১৫ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নূরপুর চারমাথা মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, রমজান আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বসতবাড়ি আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। আগুনে বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে পাবনা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শফিউল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে ১৪-১৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও পাবনা জেলা শাখার নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান এবং পাবনা পৌর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ। এ সময় ১০নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেতৃবৃন্দ আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতবাড়ি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তাঁরা অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। একটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই আগুনে পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এ ধরনের দুর্যোগে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, দুর্যোগ ও বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ সময় প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন পাবনা পৌর জামায়াতের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের বাড়ির মালিকদের হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত সহযোগিতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
