পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ছয় বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন ওমানে। রাজধানী মাসকাটের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করে চলছিল জীবনের চাকা। নিয়ম করে প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু ১৬ দিন ধরে সেই ফোন আর আসছে না। বন্ধ মোবাইল, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, সহকর্মী ও পরিচিতদের কাছেও নেই কোনো খোঁজ। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের যুবক খলিলুর রহমান রিফাতের (২৭) হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা সাফিয়া আক্তার।
নিখোঁজ রিফাত চুনারুঘাট উপজেলার কালিশীরি গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হকের দ্বিতীয় সন্তান। প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি ওমানে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের দাবি, ১৬ দিন আগে মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় রিফাতের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ভালো আছেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রথম দিকে বিষয়টিকে নেটওয়ার্কের সমস্যা বলে ধারণা করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এক দিন, দুই দিন করে ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও রিফাতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
পরে ওমানে থাকা রিফাতের সহকর্মী, রুমমেট ও পরিচিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্বজনেরা। কিন্তু তারাও রিফাতের কোনো সন্ধান দিতে পারেননি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রিফাত কর্মস্থল রেস্টুরেন্টেও যাচ্ছেন না। মাসকাটে ওই রেস্টুরেন্টের বিদেশি মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কাছ থেকে রিফাতের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে চুনারুঘাটের কালিশীরি গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলের চিন্তায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা সাফিয়া আক্তার। সন্তানের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ছুটছেন বাবা আজিজুল হক। ১৬ দিন ধরে ছেলের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
ছেলের সন্ধান চেয়ে আকুতি জানিয়ে সাফিয়া আক্তার বলেন, আমার ছেলে প্রতিদিন আমাকে ফোন দিত। ১৬ দিন ধরে আমার বুকটা খালি। আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না, তাও জানি না। আমার ছেলেকে খুঁজে পেতে আমি সরকার ও প্রবাসী ভাইদের সাহায্য চাই।
রিফাতের সন্ধান পেতে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বাবা আজিজুল হক।
