বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান।
বিজ্ঞাপন
পাঁচ বছর মেয়াদী এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে, ফলে সামগ্রিক মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে অভূতপূর্ব সুযোগ ও সুরক্ষা লাভ করবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে তারা উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এছাড়া এই চুক্তির আওতায় কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে নারী বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষায় চুক্তিতে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতির কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধানও এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।
