মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামে ঋণ নিয়ে করা একটি কলাবাগানের প্রায় এক হাজার গাছ কেটে ধ্বংস করে দেওয়ার ঘটনায় সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে আয়ুব আলী (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাল্লা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত ইদ্রিস মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাল্লা গ্রামের কৃষক জয়দার শেখ তার বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্তান সংলগ্ন প্রায় ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে একটি কলাবাগান গড়ে তুলেছিলেন। বাগানটি তৈরির জন্য তিনি বিভিন্ন এনজিও এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় চার লাখ টাকা ঋণ নেন। সম্প্রতি ওই বাগানের গাছগুলোতে কলার কান ও ছড়া আসতে শুরু করেছিল, যা তার পরিবারে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে তার বাগানের প্রায় এক হাজার কলাগাছ কেটে মাটিতে লুটিয়ে দেয়। এতে তার প্রায় ছয় লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঋণ ও ধারদেনা করে গড়ে তোলা স্বপ্নসম এই বাগানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন অসহায় এই কৃষক।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চ মহলের নজরে আসে। মাগুরার পুলিশ সুপার মো. মোল্লা আজাদ হোসেন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদকে দ্রুত মামলা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশ পাওয়ার পরই মাঠে নামে পুলিশ এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, কলাগাছ নির্বিচারে কেটে ফেলার এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার শেখ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আয়ুব আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, সর্বস্ব হারানো কৃষক জয়দার শেখ ও তার পরিবার এই নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
