ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও এরিক টেন হাগের দ্বন্দ্বের কথা ফুটবলপ্রেমীদের অজানা নয়। তবে এবার সেই বিরোধের নেপথ্যের নানা ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইউনাইটেডের সাবেক কোচ। দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোর অনুশীলন, মাঠে তার পরিশ্রম এবং একাদশে জায়গা না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ডাচ কোচ।
টেন হাগের দাবি, ইউনাইটেডে রোনালদোর দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রত্যাশিত পরিশ্রম ও নিবেদন দেখা যায়নি পর্তুগিজ তারকার মধ্যে। এমনকি দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল, সেটিও তিনি যথাযথভাবে নিতেন না বলে অভিযোগ সাবেক এই কোচের।
সাক্ষাৎকারে টেন হাগ বলেন, রোনালদোর কাছ থেকে তিনি আরও বেশি প্রত্যাশা করেছিলেন। তাকে কেন্দ্র করেই দলের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার আগেও রোনালদোর সঙ্গে দেখা করতে পর্তুগালে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে নিজের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
রোনালদোর প্রতি সম্মান থাকার কথা স্বীকার করলেও টেন হাগ জানান, কোচ হিসেবে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তার ভাষায়, রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হলেও দলের প্রয়োজনে যাদের উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাদেরই একাদশে রেখেছেন তিনি।
ইউনাইটেডে নিজের প্রথম মেয়াদে ১৯৬টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ খেলে ৮৪টি গোল করেছিলেন রোনালদো। ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে ২০২১ সালে আবারও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় তার অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত সুখকর হয়নি।
রোনালদোর মাঠের পারফরম্যান্স ও দৌড়ানোর মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন টেন হাগ। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরাসরি রোনালদোর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কোচের মতে, সতীর্থরা ভালো অবস্থানে বল পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিশ্রম করলেও গোল করার জায়গায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় দৌড় না দিলে সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব নয়।
টেন হাগ আরও স্পষ্ট করেন, রোনালদোর ওপর অতিরিক্ত প্রেসিংয়ের চাপ দেওয়াই তার সমস্যার মূল কারণ ছিল না। বরং বল পায়ে থাকুক কিংবা না থাকুক, দুই পরিস্থিতিতেই প্রয়োজনীয় দৌড় ও মুভমেন্টে ঘাটতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এর পেছনে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির অভাবকেই দায়ী করেছেন সাবেক ইউনাইটেড কোচ।
অন্যদিকে, ২০২২ সালে পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া আলোচিত সাক্ষাৎকারে রোনালদোও ক্লাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একই সাক্ষাৎকারে টেন হাগেরও সমালোচনা করেন তিনি। এর পরপরই দুই পক্ষের সম্পর্কের ইতি ঘটে।
২০২২ সালের ২২ নভেম্বর পারস্পরিক সমঝোতায় রোনালদোর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এরপর কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেন পর্তুগিজ তারকা। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন তিনি।
রোনালদো ও টেন হাগের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ইউনাইটেডে তাদের সম্পর্কের অবনতি কেবল একাদশে জায়গা পাওয়া না-পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দলের কৌশল, অনুশীলনে নিবেদন এবং পারস্পরিক প্রত্যাশার পার্থক্যও সেই বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।