উৎসবের আগে শহরের রাস্তাগুলিকে দেওয়া হয়েছে নয়া ‘মেক-ওভার’। সাজিয়ে তোলা হয় একেবারে নতুন রঙে। আর তাতেই বিপত্তি! এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টিভেজা চিংড়িহাটা উড়ালপুলে পর পর কয়েকটি বাইক পিছলে পড়েছে। আর তা সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শুরু হয়েছে তদন্ত। ‘অ্যান্টি স্কিড’ রং ব্যবহার করা সত্ত্বেও কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে উৎসবের আগে এই ঘটনায় একেবারে সতর্ক রাজ্য সরকার। রাতারাতি চিংড়িহাটা ব্রিজের উপর থেকে তোলা হল রং। স্পিড নিন্ত্রয়ণে বসানো হল বিশেষ ব্লক।
এদিকে চিংড়িহাটা ব্রিজের ঘটনা থেকে কার্যত শিক্ষা নিয়ে বড় পদক্ষেপ করা হল আসানসোলেও। পুজোর আগে আসানসোলের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের রাস্তাকে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। সেই রাস্তার রং বুধবার সারারাত মোছার কাজ করা হয়। মানুষের নিরাপত্তাকে সবার আগে গুরুত্ব দিতেই বুধবার সন্ধ্যায় করা রং রাতারাতি তুলে দিল জেলা প্রশাসন। জানা গিয়েছে, সাময়িক এই রং তুলে দেওয়া হলেও সৌন্দর্যায়নের কাজ এখানেই শেষ হচ্ছে না। ভবিষ্যতে রাস্তা সুন্দর রাখার পাশাপাশি বৃষ্টির দিনেও যাতে যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে, তার জন্য বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ পিচ্ছিল-রোধী উপকরণ ব্যবহারের নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
জানা যায়, বিভিন্ন রং প্রস্তুতকারী সংস্থার সিএসআর প্রজেক্টের তহবিলের অর্থে এই সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে রঙিন রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছিল বলে একাধিক অভিযোগ সামনে আসছিল। শুধু তাই নয়, রোদে চালকদের চোখ ধাঁধাচ্ছিল বলেও অভিযোগ সামনে আসছিল। এরমধ্যেই বুধবার দুপুরে এক পশলা বৃষ্টির জেরে জল জমায় চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের রঙে ঢাকা রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় পর পর একাধিক মোটরবাইক নিয়ে চালকরা দুর্ঘটনায় পড়েন। অভিযোগ উঠে, পুজোর জন্য সরকারি উদ্যোগে পুরমন্ত্রীর তদারকিতে শহর সৌন্দর্যায়নের নামে এই রঙ করার জন্য বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়েছে। বিশেষ করে মোটর বাইক চালকদের জন্য গড়িয়াহাট ও চিংড়িহাটা উড়ালপুলের রঙে ঢাকা রাস্তাটি মরণফাঁদ হয়েছে বলে বিরোধী দল তৃণমূল এবং কংগ্রেসের তরফে পৃথকভাবে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, চিংড়িহাটা ফ্লাইওভারে মোটরবাইক ‘স্কিড’ করার ওই দুর্ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। খবর পৌঁছায় নবান্নে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বিভাগীয় পুর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে। সাংবাদিক বৈঠকের পর একান্ত আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ‘‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি কারণে দুর্ঘটনা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখার জন্য। অনেকে বলছেন, বিভিন্ন রং এর কারনে চালকদের চোখ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, যদি সেটাও হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা হবে। মানুষের প্রয়োজনে যেটা সুবিধা সেটাই হবে।’’ পুরমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর রাতেই ঘটনাস্থলে কেএমডিএ ও কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা পৌঁছে রাস্তায় রঙ যাতে পিচ্ছিল না থাকে তার কাজ শুরু করেন বলে জানা যায়।
