কখনও তিনি যন্তর মন্তরে চলে যান। কখনও থানার সামনে ধরনা দেন। কখনও নির্বাচন কমিশন অভিযানের নামে আকাশবাণী ভবনের সামনে গিয়ে সটান বসে পড়েন। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধী শিবির যে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তাতে প্রতিদিন অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। তাতে মাঝে মাঝেই থাকছে সারপ্রাইজ। যার ফলে অপ্রস্তুতে পড়ে যেতে হচ্ছে দিল্লি পুলিশকে। তাই দিল্লির নিরাপত্তায় আর কোনওরকম খামতি রাখতে চায় না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যাতে বিরোধীরা কোনও সময় সারপ্রাইজ আন্দোলন শুরু করলে তাতে নিরাপত্তারক্ষীরা খেই হারিয়ে না ফেলে।
সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের তথাকথিত ‘সাফল্যে’র পর এবার কোন পথে ইন্ডি জোটের জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী বিক্ষোভ? রাহুল গান্ধী বলছেন, আপাতত সাসপেন্স রাখতে চান তিনি। বিক্ষোভ আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, কংগ্রেস বা ইন্ডি জোট আগামী দিনে কী করবে, সেটা কারও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে নিরাপত্তার বজ্র আটুনি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। রাজধানীর নিরাপত্তা শিথিল করছে না দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর পুলিশের তরফে অতিরিক্ত ২৭ হাজার আধা সেনা উৎসবের দিনগুলিতে মোতায়েন রাখার আর্জি জানানো হয়েছিল। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আর্জি মঞ্জুর করেছে বলে খবর।
গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের দিন দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ৫০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল। এরমধ্যে ২৭ হাজার ছিল একাধিক আধা আধাসেনার জওয়ান। বাকিটা দিল্লি পুলিশের কর্মী। সেই ৫০ হাজার সেনাবাহিনী আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে। অর্থাৎ উৎসবের দিনগুলিতে যদি কোনওরকম বিক্ষোভও হয় তাতেও জনজীবন যাতে ব্যহত না হয় সেদিকে নজর দিচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
তবে সূত্রের দাবি, নবরাত্রি চলাকালীন দিল্লিতে আর বড় জমায়েত নাও করতে পারে ইন্ডিয়া জোট। গতকাল রাহুল গান্ধীর বাড়িতে চা চক্রে সেই আলোচনাই হয়েছে। যদিও সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াই চলতে থাকবে। আগামী দিনে বিক্ষোভের ধরনেও যে অভিনবত্ব আসবে সেটার ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। আপাতত সেই অভিনবত্বের কথা মাথায় রেখে পুলিশ কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখছে।
