আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে প্রতিবাদের কৌশলে পরিবর্তন আনল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শুধুমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরিবর্তে তারা এখন একটি বৃহত্তর ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ কর্মসূচি গড়ে তোলার পক্ষে। আরএই আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন স্তর ও বয়সের মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিরোধী জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্য দিল্লির বারখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পদযাত্রা করা হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মূলত এই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল।
তবে, গত দুদিন ধরে দিল্লিতে যারা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন, সেই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে তারা এখন প্রতিবাদের ধরণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ বিরোধীরা রাস্তায় নামার আগে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি সুশীল সমাজের সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
কিন্তু বিরোধীদের কৌশলে এই পরিবর্তনের কারণ কী?
সূত্রের খবর, কংগ্রেস জোটের নেতাদের দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা বহন করতে বলেছে। এই কৌশলের লক্ষ্য হল কর্মসূচিটিকে একটি ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে তুলে ধরা, যাতে শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো এতে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়।
গত দু'দিন ধরে দিল্লিতে আইনজীবী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর যে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে, তার চরিত্র বা ধরণ দেখেই করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস মনে করে, যদি এই কর্মসূচিকে শুধুমাত্র বিরোধী দলের প্রতিবাদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্ম, অলাভজনক সংস্থা এবং আইনজীবীদের মতো গোষ্ঠীগুলো এতে নাও দিতে পারে। অথচ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে হওয়া আগের প্রতিবাদগুলোতে সমাজের এই অংশগুলো সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে বিরোধী জোটের প্রতিবাদের সময় কংগ্রেসের পতাকার আধিক্য ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য দলের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া গত চার দিনে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোতে বিরোধী জোটের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা অংশ নেননি, যা তাদের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করেই আজকের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হল- বিরোধী জোটের সব দলের নেতা ও কর্মীদের দলীয় পতাকার বদলে জাতীয় পতাকা বহন করতে বলা হয়েছে। কংগ্রেস তাদের জোটসঙ্গীদের কর্মীদের মাঠে নামানোর আহ্বান জানিয়েছে- যার অর্থ হল, আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলোর সমর্থকরাও উপস্থিত থাকবেন।
গণতন্ত্রের দাবিতে আয়োজিত 'চলো দিল্লি' কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আইনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো আন্দোলনটিকে নিছক কোনও রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে না দেখিয়ে একটি "গণতান্ত্রিক আন্দোলন" হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী। যাতে 'জেন-জি' বা তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা যায়।
বিরোধী দলগুলোর চার দিনব্যাপী এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এতদিন কেবল তাদের নিজেদের নেতা ও কর্মীরাই রাস্তায় নেমেছিলেন। এর পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাকও তরুণদের কানে পৌঁছেছিল।
কংগ্রেস এই দু'টি উদ্যোগকে এক করে বিষয়টিকে একটি "গণ-আন্দোলন" হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।
