বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বুকজুড়ে এখন ধু-ধু বালুচর। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। যে জমিতে অন্য ফসল ফলানো কঠিন, সেই বালুময় জমিতেই এখন বাদাম চাষে ব্যস্ত কৃষক। স্বল্প খরচ, কম পরিচর্যা আর ভালো লাভের আশায় চিনাবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা। যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে এখন শুধু বাদামের চাষ নয়, বুনছেন কৃষকেরা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন। সঠিক পরিকল্পনা আর কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলে বালুর বুকেই ফুটবে স্বচ্ছলতার হাসি।
সরেজমিন যমুনা পাড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচর। কোথাও জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কোথাও সারি সারি জমিতে বীজ বুনছেন। কেউ শ্রমিক নিয়ে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোনো পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্য মিলে বাদাম চাষ করছেন। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই এসব জমিতে জীবিকার পথ খুঁজছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
চরের উপরিভাগে বালুর আধিক্য থাকায় অন্য ফসল তেমন হয় না। তাই কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেন কৃষকেরা। কাঁচা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে বীজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর লাঙল দিয়ে জমিতে সারি তৈরি করে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পর তেমন পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠে বাদামগাছ।
কৃষকদের হিসাবে, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা দরে। ফলে অল্প বিনিয়োগে ভালো আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চরাঞ্চলে।
তবে এই সম্ভাবনার পুরোটা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বৈশাখি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা ও পুকুরিয়া চরে বালুর আস্তরণ পড়া শত বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে বাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার পাশাপাশি বদলাতে পারে চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা। এ জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান স্থানীয় কৃষকেরা।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, বেলে-দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চরাঞ্চলের মাটিও এ ফসলের উপযুক্ত। চরে বাদাম চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভের সম্ভাবনা বেশি। সার ও সেচের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকেরা এ ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
এমএইচ
