Published on
:
2 min read
এই সময়: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপিকে নিশানা করা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, বিজেপি সরকারের ‘সদিচ্ছা’ নিয়েও। এমনকী, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামার হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি অভয়ার বাবা। এই আবহে ‘জনতার আদালত’–এর পারসেপশনের কথা স্মরণ করালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আরজি কর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মনোভাব তাঁর জানা। সেই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে শমীক বলেন, ‘কেউ জামিন পেয়েছেন বলেই তিনি অপরাধী নন, এটা বলা যাবে না। জন–আদালতে এটা প্রতিষ্ঠা পেয়ে গিয়েছে যে, আরজি করের ঘটনায় উনি (সন্দীপ ঘোষ) যুক্ত ছিলেন।’
দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। অথচ ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ বন্দি দশা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার এই ধীরগতির কথা মাথায় রেখে সন্দীপের জামিন বৃহস্পতিবার মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআইয়ের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ধৃত প্রাক্তন অধ্যক্ষর জামিন এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করেছিল। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করা হলে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ হাইকোর্টের নির্দেশই খারিজ করে দেয়।
তৃণমূল জমানায় আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালের মধ্যেই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। পথে নেমে আন্দোলন করেছিল বিজেপি। দলের শীর্ষ নেতারা ভোট প্রচারে বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই নতুন ভাবে খোলা হবে আরজি করের ফাইল। ক্ষমতায় এসে কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন ভাবে শুরু হয়েছে আরজি করের ঘটনার তদন্ত। এর মধ্যেই দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সন্দীপ ঘোষ জামিন পেয়ে যাওয়ায় হতাশ অনেকেই। তাদের মনোবল অটুট রাখতে শমীক এ দিন জোর দিয়েছেন জনতার আদালতের রায়ের উপর। তাঁর সাফ কথা, ‘জন–আদালতে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে আরজি করের ঘটনায় কারা যুক্ত ছিল।’ সেই সঙ্গে তাঁর সং়যোজন, ‘আইন তো আবেগের উপর নির্ভর করে চলে না। বেল পাওয়াটাও তো আইনসিদ্ধ অধিকার। আইনেরও কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে, সে কারণে জামিন পেয়ে থাকতে পারেন সন্দীপ।’
এ দিকে, সন্দীপ ঘোষ জামিন পেতেই বিজেপির উপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে মমতা–তৃণমূল শিবির। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ শুক্রবার বলেন, ‘যাঁরা বলেছিলেন আমরা ক্ষমতায় এলেই বিচার হবে, তাঁরা এখন কোথায়? পানিহাটির বিধায়ক কী বলবেন? আপনাদেরই তো সরকার!’ তাঁর সংযোজন, ‘আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা ভয়ঙ্কর। আমরা তীব্র নিন্দা আগেও করেছি। এখনও করছি। কিন্তু যাঁরা সেই ঘটনাকে সামনে রেখে অপপ্রচার করেছিলেন, তাঁদের মানুষ দেখছে।’ আরজি করের নির্যাতিতার বাবা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথ অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেয়ের বিচারের প্রশ্নে তিনি কাউকেই রেয়াত করবেন না। ক্ষোভ উগরে এ দিন তিনি বলেন, ‘লড়াই আমাদের চলতে থাকবে। যদি এই সরকারের সঙ্গে লড়তে হয়, লড়তে হবে। বিচারের জন্য প্রয়োজন পড়লে ফের আন্দোলন হবে। আমরা পথেই আছি। দরকারে আবারও আন্দোলন হবে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাই না।’
নাট্য ব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন বলেন, ‘আমরা যাঁরা অভয়ার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছিলাম, তাঁদের কাছে সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়া নিঃসন্দেহে দুঃসংবাদ।’ বিজেপিকে লক্ষ্য করে তাঁর মন্তব্য, ‘নরেন্দ্র মোদীও তো বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই আরজি করের ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পাবে। সেটা তো হচ্ছেই না, উল্টে সন্দেহভাজনরা জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত একচুলও এগোচ্ছে না। এটা হতাশার। তবে এটাও ঠিক জামিন পেয়েছেন, খালাস হয়ে যাননি। কিন্তু লক্ষ্মণ ভালো নয়।’
