উৎসবের সাজে রাজকীয় আভিজাত্য আর ভারতীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে আবারও নজর কাড়লেন ইশা আম্বানি। তার লেহঙ্গা যেন নিছক পোশাক নয়, সিল্কের ক্যানভাসে আঁকা এক টুকরো শিল্পকর্ম। তাতে ফুটে উঠেছে শ্রীরাধা ও কৃষ্ণের পবিত্র রাসলীলা।
বিশেষ এই লেহঙ্গায় সিল্কের জমিনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শ্রীরাধা ও কৃষ্ণের পবিত্র রাসলীলার দৃশ্য। প্রখ্যাত ডিজাইনার করণ তোরানি ও ভারতীয় লোকশিল্পকে তুলে ধরার উদ্যোগ ‘স্বদেশ’-এর যৌথ প্রয়াসে তৈরি পোশাকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কলমকারি ও ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পট্টচিত্র শিল্পরীতি।
হাতে আঁকা পৌরাণিক দৃশ্য, সূক্ষ্ম কারুকাজ ও ঐতিহ্যবাহী নকশায় লেহঙ্গাটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য শিল্পকর্ম। পোশাকের পাশাপাশি ভারী গয়না, চুলের সাজ ও নিখুঁত মেকআপেও নজর কেড়েছেন ইশা। সব মিলিয়ে তাঁর এই সাজে ভারতীয় হস্তশিল্পের ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের অপূর্ব সমন্বয় দেখা গেছে।
এই লেহঙ্গার অন্যতম আকর্ষণ এর নির্মাণশৈলী। ডিজাইনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ জন দক্ষ কারিগর ৯০ দিনেরও বেশি সময় ধরে পোশাকটি তৈরিতে কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে লেগেছে প্রায় ২০০০ ঘণ্টা। খাঁটি সিল্কের ক্রিম রঙের জমিনে হাতে আঁকা হয়েছে রাধা-কৃষ্ণের রাসলীলা। প্রতিটি কলি বা প্যানেলে ঘন নীল, লাল ও সোনালি রঙের ছোঁয়া পোশাকটিকে দিয়েছে রাজকীয় আভা।
শুধু রাধা-কৃষ্ণের চিত্রই নয়, নকশার বিভিন্ন অংশে ফুটে উঠেছে পদ্মফুল, ময়ূর ও পৌরাণিক স্থাপত্যের মোটিফ। কলমকারির সূক্ষ্ম রেখা আর পট্টচিত্রের অলংকরণসমৃদ্ধ শৈলী মিলিয়ে লেহঙ্গাটি যেন হয়ে উঠেছে চলমান এক শিল্পকর্ম।
লেহঙ্গার সঙ্গে ইশার গয়নাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কানে পরেছিলেন ময়ূরের মোটিফ ও কুন্দনের কাজ করা জমকালো কানপাশা-ধাঁচের ঝুমকা। নিচে ঝুলন্ত মুক্তা ও ঝালরের নকশা গয়নাটিতে এনেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। গলায় ভারী সোনা ও কুন্দনের কাজ করা চোকার নেকলেস, তাতে রঙিন পাথর এবং ছোট মুক্তোর ঝালর সাজটিকে আরও জমকালো করেছে।
হাতে চওড়া জড়োয়া কাজের বালা বা কঙ্কন এবং আঙুলে বড় আকারের ঐতিহ্যবাহী আংটি তার সাজে যোগ করেছে রাজকীয় মাত্রা। পোশাকের সূক্ষ্ম নকশা আর গয়নার জৌলুস-দুটিই যেন একে অপরের পরিপূরক।

ইশার হেয়ারস্টাইলেও ছিল বিশেষত্ব। সামনের চুলে হালকা পাফ তৈরি করে পেছনে সেমি-টাইড বা হাফ-আপ স্টাইলে বাঁধা হয়েছিল চুল। বাকি চুল সফট কার্ল করে পিঠের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে সাজে এসেছে কোমলতা, আবার খোলা কার্লে ফুটে উঠেছে উৎসবের আমেজ। তবে চুলের সাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল পেছনে থাকা ঐতিহ্যবাহী লটকান। টোনোটো ব্র্যান্ডের এই বিশেষ হেয়ার অ্যাক্সেসরিতে ছিল রঙিন পমপম, সুতার ঝালর, ছোট কড়ি ও কাপড়ের নকশা।
প্রচলিত হেয়ার অ্যাক্সেসরির বদলে এমন রঙিন সংযোজন তার সাজকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। মেকআপে ইশা বেছে নিয়েছিলেন গ্লোয়িং বেস। গালে হালকা ব্লাশ ও সফট কন্টোরিং মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। চোখে ড্রামাটিক উইংড আইলাইনারের সঙ্গে স্মোকি ইফেক্ট এবং শিমারি বেগুনি বা নীলচে আইশ্যাডো তার সাজে এনেছে নাটকীয়তা। ঠোঁটে ছিল ম্যাট ফিনিশের ন্যুড বা মভ শেডের লিপস্টিক।
অন্যদিকে, ক্লাসিক ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর নখের সাজকে রেখেছে পরিমিত ও মার্জিত। ভারী গয়না, রঙিন চুলের অ্যাক্সেসরি এবং চোখের জমকালো মেকআপের মধ্যে এই সরলতা পুরো লুকটিকে দিয়েছে ভারসাম্য।
২০০০ ঘণ্টার কারুশিল্প থেকে রঙিন লটকান, প্রতিটি খুঁটিনাটি মনে করিয়ে দেয়, রাজকীয় ফ্যাশনের সৌন্দর্য শুধু জাঁকজমকে নয়, ঐতিহ্য, শিল্পীর দক্ষতা আর নিজস্ব স্টাইলের মেলবন্ধনেই তৈরি হয় সত্যিকারের স্মরণীয় সাজ।
