ভারতের ধনী ও গরিবের মধ্যে আয়ের বৈষম্য কতটা, বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টে কী তথ্য? ছবি: AI নির্মিত
Published on
:
2 min read
ভারতের ধনী ও গরিবের মধ্যে আয়ের বৈষম্য কতটা তা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বৈষম্য নিয়ে একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয়, ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের তুলনায় বেশি। আর এই পরিসংখ্যান ভারতের মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতের গরিব ও ধনীদের দৈনিক আয় কত?
ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের ডেটা অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের দৈনিক মাথাপিছু আয় বা পার ক্যাপিটা ইনকাম প্রায় ৩ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকার কাছাকাছি। অন্যদিকে, আমেরিকায় এটি ২৫ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ২৫০০ টাকা, ক্যানাডায় ৩১ ডলার অর্থাৎ ৩১০০ টাকা এবং জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ২৮ ডলার অর্থাৎ ২৮০০ টাকা।
ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দৈনিক মাথাপিছু আয় প্রায় ১০ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০০০ টাকা। আমেরিকায় তা প্রায় ১৭৩ ডলার অর্থাৎ ১৭৩০০ টাকা, ক্যানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১২৯ ডলার অর্থাৎ ১২৯০০ টাকা এবং জার্মানিতে প্রায় ১২৮ ডলার অর্থাৎ ১২৮০০ টাকা।
এ ছাড়া বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে মাসে ৮০ হাজার টাকা আয় করা ব্যক্তিও দেশের উপার্জনকারীদের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে পড়তে পারেন। অর্থাৎ, ভারতের উচ্চ আয়ের শ্রেণির জীবনযাত্রার মানও উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে।
শুধু দারিদ্র্য কমালেই কি উন্নতি সম্ভব?
ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট অহনা দত্তগুপ্তের মতে, ভারতের সমস্যা শুধু দারিদ্র্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আয় কম হওয়াও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। দরিদ্র মানুষের আয় বাড়ানো জরুরি। কিন্তু শুধু ধনী-গরিবের মধ্যে আয়ের ব্যবধান কমালেই হবে না। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানও বাড়াতে হবে। তবেই বাড়বে মাথা পিছু আয় বা পার ক্যাপিটা ইনকাম।
কী ভাবে বাড়বে মানুষের আয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য বাড়াতে হবে প্রডাক্টিভিটি। অর্থাৎ, একই শ্রম, জমি ও পুঁজি ব্যবহার করে আরও বেশি পণ্য উৎপাদন করতে হবে এবং পরিষেবা আরও বাড়াতে হবে। এতে ব্যবসার প্রসার হবে, বেতন পরিকাঠামো বাড়বে এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া দেশে উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন কমানো উচিত। পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ভারতের লক্ষ্য শুধু দারিদ্র্য কমানো নয়, বরং দেশের সব স্তরের মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়ানো। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার প্রসারই দীর্ঘমেয়াদে সেই পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।
