মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে ৩৮ জেলার ১১১ জন সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অভিযানে সহযোগিতা, জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে এ ডিও লেটার পাঠানো হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিও লেটারে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মৎস্যসম্পদ এবং ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টিনিরাপত্তা ও সংস্কৃতির সঙ্গে এ মাছের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অভিযান চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও আইনত নিষিদ্ধ। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে এর উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডিও লেটারে তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা, জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আরও কার্যকর করা এবং ইলিশের প্রজনন মৌসুমে আইন অমান্য করার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ মৎস্যসম্পদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও জোরদার হতে পারে।
সূত্র: বাসস।
