উমা বিদায়ের পর তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা লক্ষ্মীদেবীকে আবাহনের পালা। রাত জেগে বাড়ি বাড়ি হবে লক্ষ্মী আরাধনা। কোজাগরী শব্দটি এসেছে ‘কো জাগর্তি’ থেকে, যার অর্থ ‘কে জেগে আছো’৷ কথিত রয়েছে, এই পূর্ণিমার রাতে নাকি দেবী লক্ষ্মী জগৎ পরিক্রমায় বেরন। তিনি দেখেন কেউ সারারাত জেগে আছেন কিনা। অনেকে এ-ও বলে থাকেন, ওইদিন রাতে যে ব্যক্তি জেগে থাকেন তাঁকে মা লক্ষ্মী ধনসম্পত্তি দান করেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো শুরু এবং শেষের তিথি কখন:
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে,
২৫ অক্টোবর, রবিবার পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে। তিথি শেষ সোমবার সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে।
গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী,
২৫ অক্টোবর, রবিবার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। পূর্ণিমা তিথি শেষ ২৬ অক্টোবর, সোমবার সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বাংলার প্রতিটি ঘর মুখরিত হয়ে ওঠে শঙ্খধ্বনিতে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষি সমাজ। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আলপনা। এই পুজো হয় মূলত প্রতিমা, সরা, নবপত্রিকা কিংবা থোড়ের তৈরি নৌকোয়। লক্ষ্মীর সরাও হয় নানারকমের। যেমন – ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি, সুরেশ্বরী এবং শান্তিপুরী সরা। নদিয়ার তাহেরপুর, নবদ্বীপ এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্মীসরা আঁকা হয়। অঞ্চলভেদে লক্ষ্মীর সরায় তিন, পাঁচ, সাতটি পুতুল আঁকা হয়। এতে থাকে লক্ষ্মী, জয়া, বিজয়া-সহ রাধাকৃষ্ণ, সপরিবার দুর্গা ইত্যাদি। ফরিদপুরের সরায় দেবদেবীরা সাধারণত একটি চৌখুপির মধ্যে থাকেন। আবার সুরেশ্বরী সরায় উপরের অংশে মহিষমর্দিনী আঁকা হয় আর নিচের দিকে থাকেন সবাহন লক্ষ্মী। উমা বিদায়ের পরই আপাতত বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মী আবাহনের প্রস্তুতি চলছে।
