ক্রেতার সুরক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক মৃত ক্রেতার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরি দিয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা।
‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় প্রয়াত ক্রেতা আবুল হোসেনের স্ত্রীকে নগদ এক লাখ টাকা এবং তার শিক্ষিত বেকার ছেলেকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিজ কেনার বকেয়া কিস্তি পরিশোধের দায় থেকেও পরিবারটিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওয়ালটনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে শোকাহত পরিবারটিতে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার চৌহাটি গ্রামে আবুল হোসেনের স্ত্রী ফেন্সিয়ারা বেগম ও ছেলে ফারহান শাহারিয়ারের হাতে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন ওয়ালটন প্লাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওয়ালটন প্লাজা সূত্রে জানা যায়, চৌহাটি গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন ফুলবাড়ী ওয়ালটন প্লাজা থেকে ২৪টি কিস্তিতে একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। চারটি কিস্তি পরিশোধের পর তার মৃত্যু হয়। এতে স্বামীকে হারিয়ে শোকের পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন স্ত্রী ও সন্তানরা। এমন পরিস্থিতিতে ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় ওয়ালটন প্লাজা। কর্মসূচির আওতায় ফেন্সিয়ারা বেগমকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং তার ছেলে ফারহান শাহারিয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয় চাকরির নিয়োগপত্র। একই সঙ্গে ফ্রিজের বাকি কিস্তির দায় থেকেও পরিবারটিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে ফারহান শাহারিয়ার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ওয়ালটন প্লাজাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। বাবার মৃত্যুর পর আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। কী করব, কীভাবে চলব এবং কিস্তিতে কেনা ফ্রিজের বাকি টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ওয়ালটন প্লাজা আমাদের বকেয়া কিস্তি মওকুফ করেছে, আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং আমার বেকারত্ব দূর করতে চাকরির ব্যবস্থা করেছে। এতে আমি অনেক খুশি। ওয়ালটন প্লাজা কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ফেন্সিয়ারা বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ওয়ালটন প্লাজা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এক লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে, ছেলেকে চাকরি দিয়েছে এবং স্বামীর বাকি কিস্তির টাকা পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে। ওয়ালটন প্লাজার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন এই প্রতিষ্ঠানকে আরো বড় করেন।
ফুলবাড়ী ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার মো. আল মামুন বলেন, আবুল হোসেন ২৪টি কিস্তিতে একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। চারটি কিস্তি পরিশোধের পর তার মৃত্যু হয়। ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় তার স্ত্রীকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষিত বেকার ছেলেকে ওয়ালটনে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় ওয়ালটন প্লাজার এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ওয়ালটন প্লাজার হেড অব ক্রেডিট ওয়াহিদুজ্জামান তানভীর বলেন, ওয়ালটন বাংলাদেশের একটি নিজস্ব ব্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটি দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্যের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে কাজ করছে। শুধু পণ্য বিক্রিই নয়, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও ওয়ালটন প্লাজার অন্যতম লক্ষ্য। আবুল হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সেই দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন ঘটেছে। তার পরিবারের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ছেলেকে চাকরি দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ক্রেতাদের কল্যাণে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন প্লাজার চিফ ডিভিশনাল অফিসার (ডিভিশন-১০) মো. জাহিদুল ইসলাম, ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার রাজিব ফেরদৌস, বিজনেস এক্সপানশন অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মিজানুর রহমান, সৈয়দপুর এরিয়ার রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো. এজাজুল ইসলাম এবং ফুলবাড়ী ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার মো. আল মামুন, প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাসহ এলাকাবাসী।
দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রাহকসেবায় অবদানের পাশাপাশি ক্রেতার বিপদে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে আবুল হোসেনের পরিবার।
