রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার রাতে চালানো এ হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা বিবিসি।
অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা নীতিগতভাবে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে বিশ্ব এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর মধ্যেই এ হামলা হলো। বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ। এর আগের দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘সম্প্রতি আমি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনের সঙ্গে তার যুদ্ধের সমাধান নিয়ে কথা বলেছি। আমার মনে হয়, আমরা সমাধানের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছি। হয়তো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।’
তবে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার মন্তব্য করলেও এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেননি ট্রাম্প।
পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, আগামী ১০ নভেম্বরের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন দফার ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, সংঘাত শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়, আলোচনায় সেটির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে অসলোতে আলোচনার সময় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে খুব একটা কার্যকর মনে করেনি মস্কো। উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর উশাকভ বলেন, প্রস্তাবগুলোর কিছু দিক রাশিয়াকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
অন্যদিকে উইটকফ সর্বশেষ আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেওয়া কুশনার বলেন, সামনে এখনো কঠিন কাজ রয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির কাঠামো গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ইউক্রেনের পশ্চিমা সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে আসার সময় রাশিয়া হামলা জোরদার করে।
