চোখের সামনে হবু স্ত্রীকে হারিয়ে কান্না অভিষেক মণ্ডলেরনিজস্ব চিত্র
Published on
:
2 min read
বিয়ের পাকা কথা হয়ে গিয়েছে। আগামী বছরেই চার হাত এক হবে। তার আগে শনিবার প্রথম সপ্তমীতে হবু স্ত্রী স্নেহা ভাণ্ডারীকে (২০) সঙ্গে নিয়ে চোরবাগান সর্বজনীনে পুজো দেখতে এসেছিলেন অভিষেক মণ্ডল। কিন্তু ভিড় যে সব কেড়ে নেবে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অভিষেক নিজে বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় স্নেহার। কাঁদতে কাঁদতে এমনই দাবি করলেন তিনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটে বাড়ি স্নেহার। অভিষেকও সেখানেই থাকেন। এ দিন হবু জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় পুজো দেখতে এসেছিলেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে খোলা ছিল প্রবেশ পথ। অভিষেকের দাবি, বাইরে কেউ বেরোতে না পারার কারণেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।
বৃষ্টি শুরু হতেই মণ্ডপে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অভিষেকের অভিযোগ, বেরোনোর রাস্তা বন্ধ থাকায় অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে আটকে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠেলাঠেলি শুরু হয়। বেরোনোর জন্য হুড়োহুড়ির মধ্যে ভিড়ের চাপে পড়ে যান অনেকে। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন স্নেহাও। চোখের সামনে বান্ধবীকে পড়ে যেতে দেখেও কিছু করতে পারেননি অভিষেক। তিনিও কোনও রকমে প্রাণ বাঁচেন।
পুজো দেখতে এসে স্নেহাকে হারানোর যন্ত্রণা তাড়া করে বেড়াচ্ছে অভিষেককে। যে মেয়েটির সঙ্গে আগামী বছর ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর জীবন যে এ ভাবে থেমে যাবে, তা এখনও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। স্নেহাকে ফিরিয়ে আনতে না পারার অসহায়তা আর হারানোর যন্ত্রণা—সব মিলিয়ে কান্না থামছে না অভিষেকের।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যে ঘোষণা করেছেন তিনি। আহতদের দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা করে।
