The Sangbad · সাধারণ
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
২৫/১০/২০২৬

রাজধানী প্যারিসে লকডাউনের মতো কঠোর পরিস্থিতিশিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে উত্তাল রাজপথগত সপ্তাহে নজিরবিহীন দাঙ্গা ও লুটপাটের পর এবার সম্ভাব্য সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগেভাগেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এবার অতিরিক্ত ১০ হাজারসহ মোট ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মানের অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভের শুরুটা দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ হলেও দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদ ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর সহিংসতার সাক্ষী হয়েছিল ফ্রান্স। সেই ভয়াল স্মৃতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই সরকার এবার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে কার্যত লকডাউনের মতো এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সম্ভাব্য হামলা ও লুটপাট এড়াতে স্থানীয় দোকানিরা তাদের দোকানের সামনে কাঠ ও ধাতব পাটাতন লাগিয়ে দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বখ্যাত লুভর জাদুঘর, মুসে দ’অরসে এবং প্যারিস অপেরার মতো প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে মেট্রোর ২০টিরও বেশি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।এমন অচলাবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটক জাভিয়ের দোলিওল বলেন, চারপাশের সবকিছু বন্ধ থাকায় তাঁরা কোথায় যাবেন বা কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না। ওদিকে প্যারিসের একটি কিটন বুটিকের ব্যবস্থাপক অস্কার বলেন, ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে, তাই দোকান খোলা রাখার তেমন কোনো অর্থ হয় না।বিক্ষোভের গতিপ্রকৃতি ও পথ নির্ধারণ নিয়ে শেষ মুহূর্তে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও আইনি লড়াই তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, আগের নির্ধারিত পথে গত সপ্তাহান্তে বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তবে বামপন্থি নেতাদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে মিছিলের পথ পরিবর্তন করে সরকার মূলত বিক্ষোভকারীদের বিভ্রান্ত করা ও জনসমাগম কমানোর অসৎ চেষ্টা চালিয়েছে।বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বামপন্থি নেতা মেলঁশোঁ অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা বারবার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও মিছিলের আয়োজনে নানা বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কঠোর দমনপীড়ন এবং বাধা দেওয়ার সব চেষ্টা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, নতুন অনুমোদিত পথে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে হাজার হাজার মানুষ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে দীর্ঘ মিছিল সম্পন্ন করেছেন এবং একে তিনি সামাজিক আন্দোলনের এক বিরাট বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে সেই শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার ক্ষোভও যুক্ত হয়।শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির বৈষম্যমূলক ‘পারকুরসুপ’ ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার এবং স্কুলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা (১৫০ কোটি ইউরো) বরাদ্দের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই গণবিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗