টেস্ট মর্যাদা মিলেছে পাঁচ বছর আগে। কিন্তু সাদা পোশাকে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে অভিষেকের অপেক্ষা দীর্ঘ হলেও এত দিনে প্রস্তুতির ভিতই শক্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাঁচ বছরে লাল বলের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হয়েছে মাত্র দুটি। এবার ২০২৮ সালে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলার লক্ষ্য ঠিক করেছে নতুন বোর্ড। তবে তার আগে নিয়মিত দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট চালু, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
২০২১ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশ নারী দলকে টেস্ট মর্যাদা দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এরপর কেটে গেছে পাঁচ বছর। এই সময়ে টেস্ট খেলতে পারেনি বাংলাদেশ, অথচ দেশের হয়ে অন্তত একটি টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুনের। সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেছে তার। আক্ষেপ নিয়ে সালমা বলেন, ‘এই আফসোস সব সময়ই থাকবে যে, দেশের হয়ে একটা টেস্ট খেলতে পারলাম না।’
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পরই উদ্যোগ নিলে এত দিনে খেলা সম্ভব হতো বলে মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, আন্তর্জাতিক টেস্টের আগে ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেট নিয়মিত করতে হবে। অন্তত দুই বছর খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সংস্করণে খেলার সুযোগ দিলে টেস্টের জন্য উপযুক্ত দল বেছে নেওয়া সহজ হবে।
টেস্টের প্রস্তুতির প্রধান ক্ষেত্র ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেট। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের সেই সুযোগ বরাবরই ছিল সীমিত। ২০২৩ সালে তিন দল নিয়ে দুই দিনের উইমেন্স বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার অঞ্চলের খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজন করা হয় তিন দিনের নারী বিসিএল। এরপর নিয়মিত লাল বলের ক্রিকেট আর মাঠে গড়ায়নি।
সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ এর জন্য বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করেন। তার ভাষ্য, এত দিনে শুরু করাটা উচিত ছিল, তাহলে বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলতে পারতাম। এটা নিয়ে আসলে চিন্তা করা উচিত ছিল বোর্ডের। তার মতে, এ ক্ষেত্রে আসলে কিছুটা গাফিলতি ছিল।
সাবেক নারী দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার সুমনের অভিমত, নিয়মিত লাল বলের ক্রিকেট না খেলিয়ে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তিনি বলেন, আগামী দুই বছর নিয়মিত ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে হবে। এরপর টেস্ট খেলা।
এদিকে বিসিবির নারী বিভাগের পরিকল্পনা, চলতি বছর ও আগামী বছরের এপ্রিলে উইমেন্স ক্রিকেট লিগ আয়োজন করা হবে। শুরুতে তিনটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়ে পরে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। ২০২৮ সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট আয়োজনের বিষয়ে আলোচনার পরিকল্পনাও আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে নির্ধারিত সিরিজে একটি টেস্ট আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে বোর্ডের।
নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, তিনি টেস্ট খেলার ব্যাপারে পজিটিভ। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তারা নারীদের তিন দিনের ম্যাচ শুরুর চিন্তাভাবনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি লাল বলে নারীদের অভ্যস্ত করতে চাই, এরপরে টেস্ট নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হবে।’
বাবু আরে জানান, দেশের মাটিতেই বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম টেস্ট আয়োজন করতে চায় বিসিবি। তবে তার আগে প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পের মনোযোগ অবশ্য আপাতত সাদা বলের ক্রিকেটে। সামনে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় এখন সেদিকেই প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে চান তিনি। তার মতে, নারী টেস্টের ম্যাচের সংখ্যা এখনো সীমিত। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরাও ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেট খেলে না।
টেস্ট খেলতে চান নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও। তবে প্রস্তুতি ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণে মাঠে নামতে আগ্রহী নন তিনি। তার ভাষ্য, এই ফরম্যাটে পা রাখার আগে আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে ঘরোয়াতে। অনেক বেশি খেলতে হবে লাল বল, গেল পাঁচ বছর আমরা লাল বলের দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছি।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের মতে, টেস্ট অভিষেকের নির্দিষ্ট সময়সীমা আইসিসি বেঁধে দেয়নি। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই এগোতে হবে।
