আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিল দিল্লি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে দিল্লি পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ চলাকালীন আটক ব্যক্তিদের অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। তাঁদের ‘গরম, টাটকা ও ভাল খাবার’ দেওয়া হয়েছিল।
এমনকী, ছ’ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আদালত অবমাননার মামলায় এই হলফনামা জমা দিয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার।
তাঁর দাবি, আটক রাজনৈতিক নেতাদের থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কক্ষে বসানো হয়েছিল। তাঁদের চা, কফি, খাবার সহ অন্যান্য আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন দিল্লি পুলিশের কমিশনার। তবে আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে অমান্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া আদালত অবমাননার নোটিস থেকে অব্যাহতির আবেদনও জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে জমা দেওয়া হলফনামায় পুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ পালনে কোনও ব্যর্থতা ঘটেনি।
এমনকী, ইচ্ছাকৃত ভাবে নির্দেশ অমান্য করার প্রশ্নও ওঠেনি। উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছিল শীর্ষ আদালতে।
অভিযোগ ছিল, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল সিজেপির বিক্ষোভের দিন মেট্রো পরিষেবা সচল রাখতে হবে। কিন্তু উত্তর দিল্লির জিটিবি নগর এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল পুলিশ।
আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে, ইন্টারনেট পরিষেবায় বাধা দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, বিএনএসের ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা এলাকার বাইরে শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ক্ষেত্রে বেআইনি আটক করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ১৬৩ ধারার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি নোটিস বোর্ড সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দিয়েছিল আদালত।
ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে হলফনামায় দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানানোর পর মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
মেট্রো পরিষেবা নিয়ে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ করা হয়।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=ibjIQUWKW3DwBjuK
১০ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে হলফনামায় দাবি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সরানোর ক্ষেত্রে আইনের ৬৫ নম্বর ধারা এবং বিএনএস-এর ১৭২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছিল দিল্লি পুলিশ। তবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল শুধুমাত্র সেই এলাকাগুলিতে যেখানে ১৬৩ ধারা চালু ছিল।
