প্রসাধনীর গায়ে লেখা নামগুলো কি আমরা পড়ে দেখি?
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
সুপারশপের তাকে সারি সারি সাবান, লিপস্টিক, ক্রিম আর বিদেশি চকলেট। মোড়কের পেছনে ছোট হরফে লেখা উপাদানের তালিকা– যা আমাদের বেশির ভাগ মানুষই কখনো পড়ে দেখেন না। অথচ আধুনিক প্রসাধনীশিল্পে পশুর চর্বি একটি বহুল ব্যবহৃত কাঁচামাল। প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। যেসব সাবান, জেলি, লিপস্টিক বা চকলেটে পশুর চর্বি থাকতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা কি জায়েজ?
উত্তর: পণ্যের মোড়কে উপাদানের তালিকা থাকে, সেই তালিকা দেখে নিশ্চিত হওয়া। শূকর বা শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে জবাই না করা প্রাণীর চর্বি থাকলে তা বর্জন করা কর্তব্য। তালিকা থাকলে সন্দেহের আর জায়গা থাকে না। এটিই সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থা।
যদি পণ্যের মোড়কে তালিকা না থাকে তখনই মানুষ দ্বিধায় পড়ে। এ ক্ষেত্রে যারা এসব উপাদান সম্পর্কে জানেন– রসায়নবিদ, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ বা হালাল সার্টিফিকেশন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি, তাদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেসব দেশের পণ্যে হারাম প্রাণীর চর্বি থাকার বাস্তব সম্ভাবনা বেশি, সেগুলো এড়িয়ে চলাই সতর্কতা।
তা হলে বিকল্প কী? আজ বহু মুসলিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হালাল সার্টিফায়েড, অ্যালকোহল ফ্রি, পর্ক ফ্রি লেবেলযুক্ত পণ্য তৈরি করছে। কিছুটা খুঁজে নিলে এসব বিকল্প এখন হাতের নাগালেই পাওয়া যায়।
তবে একটি ভারসাম্যও জরুরি। নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো পণ্যকে হারাম ঘোষণা করা ঠিক নয়। শরিয়ত প্রতিটি বিষয়ে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে। কারণ তাতে জীবন অকারণে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
মনে রাখতে হবে যা নিশ্চিতভাবে হারাম, তা বর্জনীয়। যা সন্দেহজনক, তা এড়িয়ে চলা উত্তম। আর যা নিয়ে কেবল অনুমান, তার ওপর হারামের হুকুম চাপানো অনুচিত। সতর্কতা সব সময়ই প্রশংসনীয়, তবে তা যেন অহেতুক কঠোরতায় রূপ না নেয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
আরও পড়ুন
আলেম ও শাশুড়িকে ঘিরে অভিযোগ ভিত্তিহীন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি আল-হাইআতুল উলয়ার
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাওলানা ও তার শাশুড়িকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকে রেখে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-হাইআতুল উলয়া জানায়, পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িতরাই পরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।
আল-হাইআতুল উলযার অফিস ব্যবস্থাপক (মাওলানা) মু: অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে ওই মাওলানা ও তার শাশুড়িকে নিয়ে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী ও পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েকজন আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। সেখানে তাঁদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
হাটহাজারী থানা পুলিশের তদন্তকারী দল ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১১ অক্টোবর ঘটা কথিত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার তিন দিন পর ১৪ অক্টোবর পুলিশ জানায়, তদন্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো ভিডিও ফুটেজও নেই বলে জানানো হয়।
ঘটনায় অভিযুক্ত এক আনসার সদস্য পুলিশের তদন্তকারী দল ও গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এক ব্যক্তি তাদের সেখানে নিয়ে এসে ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর তাঁর ফোন থেকে ভুলবশত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হয়ে যায় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িতরা পরবর্তীতে প্রকাশ্য ভিডিও বক্তব্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বিনা প্রমাণে একজন আলেম ও একজন নারীকে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ, জিজ্ঞাসাবাদ ও তা প্রচার করা আইনবিরুদ্ধ ও শরিয়তবিরোধী। এ ঘটনায় ওই মাওলানা, তাঁর শাশুড়ি ও পরিবার যে মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তার দায় ভিডিও ধারণ ও প্রচারকারীদের বলে মন্তব্য করা হয়। যাঁরা যাচাই ছাড়া ভিডিও শেয়ার করেছেন বা মন্তব্যে চরিত্রহনন করেছেন, তাঁদেরও তা মুছে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় আলেম সমাজ ও আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন বোর্ডসমূহের থানা কমিটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া। এ ঘটনায় যারা সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে এনেছেন, আল-হাইআতুল উলয়ার নেতৃবৃন্দ তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট পোস্ট সরিয়ে ফেলার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, ভিডিও প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোকে তদন্তের ফলাফল ও সংশোধনী সমান গুরুত্বে প্রকাশ করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রমাণ ছাড়া কাউকে, বিশেষ করে আলেম-ওলামা ও নারীদের হেনস্তা ও চরিত্রহননের ঘটনা রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে আল-হাইআতুল উলয়া।
বিবৃতির শেষে দেশবাসীকে কোনো তথ্য বা ভিডিও যাচাই ছাড়া বিশ্বাস, শেয়ার বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
এক রাতে মিলে যায় ৮৩ বছরের প্রতিদান
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ধরুন, কেউ আপনাকে বলল, একটি মাত্র রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও দামি। হিসাব করলে হাজার মাস মানে প্রায় ৮৩ বছর, একটি পূর্ণ জীবনের সমান। বিস্ময়কর মনে হলেও কোরআন ঠিক এই ঘোষণাই দিয়েছে। আর এর পেছনে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী প্রেক্ষাপট।
তাফসিরের গ্রন্থগুলোতে, বিশেষ করে ইবনে আবি হাতেমের বর্ণনায় এসেছে যে একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বনি ইসরাইলের এক মুজাহিদের কথা আলোচনা করলেন। তিনি টানা এক হাজার মাস আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম এ কথা শুনে বিস্মিত হলেন। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগল, এত দীর্ঘ আয়ুষ্কাল আমাদের নেই, আমরা কীভাবে তাদের সমান আমল করব?
ইবনে জারিরের বর্ণনায় আরেকটি ঘটনার উল্লেখ আছে। বনি ইসরাইলের একজন ইবাদতকারী সারা রাত ইবাদতে কাটাতেন, আর দিনভর জিহাদে ব্যস্ত থাকতেন। এভাবে তাঁর হাজার মাস পার হয়ে যায়।
পূর্ববর্তী উম্মতের মানুষেরা দীর্ঘ জীবন পেতেন, আর উম্মতে মুহাম্মদীর আয়ু তুলনামূলক অনেক কম। সাহাবিদের এই আক্ষেপের জবাবেই আল্লাহতায়ালা নাজিল করেন সুরা কদর। এতে ঘোষণা এসেছে: নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি কদরের রাতে।
পরের আয়াতগুলোতে জানানো হয়েছে, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ এই উম্মতের জন্য একটি রাতই পূর্ববর্তী সেই মুজাহিদদের হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। আলেমদের মতে, শবে কদর উম্মতে মুহাম্মদীর এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই সময়ের অভাবের অভিযোগ করি। সুরা কদর শেখায়, আল্লাহর কাছে পরিমাণের চেয়ে আন্তরিকতা বেশি মূল্যবান। একটি রাতের নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত, তাওবা ও দোয়া জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
মনে রাখা প্রয়োজন যে, সুরা কদর আসলে আল্লাহর দয়ার এক অনন্য ঘোষণা। স্বল্প আয়ুর উম্মতকেও তিনি দিয়েছেন দীর্ঘ প্রতিদান পাওয়ার সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগানোই আমাদের দায়িত্ব।
সূত্র: তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম, তাফসিরে ইবনে জারির, তাফসিরে কুরতুবি, মাআরিফুল কোরআন; সুরা কদর, ১-৩
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
আরও পড়ুন
১৫ অক্টোবর ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ এএম
অক্টোবর মাসের নামাজের সময়সূচির ছবি
-->প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন ‘নামাজ’। (বুখারি, ৫২৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)
আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি:
☀ জোহর: ১১:৪৮ মিনিট
⛅ আসর: ৩:৫৫ মিনিট
🌅 মাগরিব: ৫:৩৬ মিনিট
🌌 এশা: ৬:৪৯ মিনিট
🌅 ফজর (১৬ অক্টোবর): ৪:৪২ মিনিট
বিভাগীয় শহরের সময় সমন্বয়:
বিয়োগ: চট্টগ্রাম ৫ মিনিট | সিলেট ৬ মিনিট
যোগ: খুলনা ৩ মিনিট | রাজশাহী ৭ মিনিট | রংপুর ৮ মিনিট | বরিশাল ১ মিনিট
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আরও পড়ুন
স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সুরা বাকারার ২৪০ নম্বর আয়াত কী বলে?
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->স্বামী হারানো একজন নারীর জন্য শোকের পাশাপাশি আসে আরেক দুশ্চিন্তা: এখন কোথায় থাকব, কীভাবে চলব? আজও অনেক পরিবারে এ প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিত। অথচ দেড় হাজার বছর আগেই কোরআন বিধবার আশ্রয় ও ভরণপোষণকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিল। সেটিই সুরা বাকারার ২৪০ নম্বর আয়াত।
আয়াতে বলা হয়েছে, যারা স্ত্রী রেখে মারা যান, তাদের উচিত স্ত্রীর জন্য এক বছরের ভরণপোষণের অসিয়ত করে যাওয়া, আর তাকে ঘর থেকে বের না করা। তবে স্ত্রী নিজে যদি চলে যান এবং নিজের জন্য উত্তম কোনো ব্যবস্থা নেন, তাতে অভিভাবকদের কোনো গুনাহ নেই। শেষে আল্লাহর দুটি গুণ স্মরণ করানো হয়েছে: তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
মারেফুল কোরআনসহ কিছু তাফসিরগ্রন্থে মুকাতিল ইবনে হাইয়ান (রহ.)-এর সূত্রে একটি ঘটনা এসেছে। তায়েফ থেকে এক ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান ও পিতামাতাকে নিয়ে মদিনায় আসেন এবং সেখানেই মারা যান। বিষয়টি রাসুল (সা.)-কে জানানো হলে তিনি রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পিতামাতা ও সন্তানদের অংশ দেন, আর স্ত্রীর এক বছরের ব্যয় নির্বাহের নির্দেশ দেন। এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাজিল হয়। তবে বর্ণনাটি তাফসিরে উল্লিখিত একটি প্রেক্ষাপট হিসেবে উপস্থাপন করাই নিরাপদ। কারণ এর সনদ নিয়ে আলেমদের আলোচনা আছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার। মারেফুল কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্দেশ ছিল উত্তরাধিকারের আয়াত নাজিলের আগের। পরে মিরাসের বিধান এলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির নির্ধারিত অংশের অধিকারী হন। ফলে এই আয়াতের হুকুম রহিত হয়ে যায়। সন্তান থাকলে স্ত্রী পান আট ভাগের এক ভাগ, না থাকলে চার ভাগের এক ভাগ।
বিধান বদলেছে, কিন্তু মূল বার্তা অটুট: বিধবা নারী বোঝা নন, তিনি অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী। উত্তরাধিকারে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া, তাকে আশ্রয় ও সম্মান দেওয়া পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব। যে সমাজ তার সবচেয়ে অসহায় সদস্যের পাশে দাঁড়ায়, সেটিই প্রকৃত অর্থে সভ্য।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
