প্রকাশিত: ২২:৫৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ভোলা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন
নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির টাকায় নার্সারি গড়ে তোলা, হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ এবং মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে গ্রামের চিত্র বদলে দিয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের ইমাম রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। বৃক্ষরোপণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বৃক্ষপ্রেমী ইমাম রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি কালাপানিয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রায় আট লাখ টাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে ভূইয়ারহাটে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। এরপর বিনা মূল্যে গাছের চারা বিতরণ ও মাইকে প্রচারণার মাধ্যমে শুরু করেন বৃক্ষরোপণ আন্দোলন।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের প্রচেষ্টায় ফলদ, ঔষধি ও অন্যান্য প্রজাতির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি রোপণ করেছেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার তালগাছের বীজ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচনা করেন এই ইমাম। নিজের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বাবুলের এমন উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তাঁর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। চরফ্যাশনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে যাওয়া রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে তাঁর কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
