বাজারে অনুমানের চেয়ে বেশি আয়ের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ায় চলতি বছরের পরিচালন মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে জার্মানির বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ইতিবাচক পূর্বাভাসের জেরে বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ারের দর ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন শুল্ক বাবদ এককালীন ২০ কোটি ইউরো ফেরত পাওয়া এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ১০ কোটি ইউরো নতুন করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে অ্যাডিডাস তাদের বার্ষিক পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ কোটি ইউরোতে উন্নীত করেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক মুনাফার পূর্বাভাস ছিল ২৩০ কোটি ইউরো।
আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা জে.পি. মর্গানের বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক ফেরতের হিসাব বাদ দিলেও তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাডিডাসের পরিচালন মুনাফা বাজার প্রত্যাশার চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি হয়েছে। আর শুল্ক ফেরতসহ হিসাব করলে তাদের আয় ৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০১ কোটি ইউরোতে (১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা বিশ্লেষকদের অনুমিত ৭৪ কোটি ২০ লাখ ইউরোর লক্ষ্যমাত্রাকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রান্তিকের আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাডিডাসের অন্যতম জনপ্রিয় ‘সাম্বা’ ও ‘গ্যাজেল’ মডেলের স্নিকার্সগুলোর চাহিদা কিছুটা কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ধরনের পণ্যের প্রসারে বিনিয়োগ জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে বাজারে আনা হয় তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে হালকা রানিং জুতো ‘অ্যাডিজিরো অ্যাডিওস প্রো ইভো ৩’, যা ব্যবহার করে গত এপ্রিলে কেনিয়ান দৌড়বিদ সাবাস্টিয়ান সাওয়ে দুই ঘণ্টার কমে ম্যারাথন শেষ করার রেকর্ড গড়েন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অ্যাডিডাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বজর্ন গুল্ডেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফুটওয়্যার লাইফস্টাইল ব্যবসা বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যার মূল কারণ বাজারে পণ্যের মাত্রাতিরিক্ত মজুত ও অতিরিক্ত মূল্যছাড়। তবে আমরা জানি এটি দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’
এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলের পর বাজার প্রতিদ্বন্দ্বী নাইকিসহ অন্যান্য সংস্থাকে পেছনে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে জুলাই মাসে দেওয়া রাজস্ব পূর্বাভাস বাজারে হতাশা তৈরি করেছিল। তবে নতুন এই চমকপ্রদ তথ্য প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অ্যাডিডাসের বাজার অংশীদারিত্ব ও লাভজনক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার একটি বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন মেটজলার-এর বিশ্লেষকরা। অবশ্য মেটজলারের বিশ্লেষক ফেলিক্স ডেনল মন্তব্য করেছেন, পূর্বাভাসের এই বড় উল্লম্ফনটি মূলত ব্যবসা বৃদ্ধির চেয়ে মার্কিন শুল্ক ফেরতের এককালীন অর্থের কারণেই বেশি ঘটেছে, যার কারণে বাজারের সার্বিক প্রত্যাশায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সীমিত হতে পারে।
