ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তারা হুতিদের ছোড়া এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।
তুর্কি আল-মালিকি জানান, হুতিরা রিয়াদের দিকে একটি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর খামিস মুশাইতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তিনি জানান, তিনটিকেই ‘আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমন এক সময়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে যখন সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শহরটি বিপর্যস্ত।
সোমবার রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের কথা জানান। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই তাদের ফোনে আকাশপথে হামলার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, রিয়াদে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, গোষ্ঠীটি ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত খামিস মুশাইত সামরিক বিমানঘাঁটির দিকেও একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। তিনি আবারও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে (পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা ছাড়া) ফ্লাইট পরিচালনা বা যাতায়াত না করার বিষয়ে সতর্ক করেন এবং বলেন যে, ওই স্থানগুলো ‘নিরাপদ নয়’।
গত ১০ অক্টোবর হুতিদের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই নতুন করে এসব হামলার ঘটনা ঘটল। ১১ অক্টোবর চালানো আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকবে এবং বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হুতিদের লড়াই চলাকালেই এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে। সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং সরকারি স্থল বাহিনীকে সহায়তা দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের জেরে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই লড়াই শুরু হয়েছিল।
