উঠে গেছে কার্পেটিং, সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও বেরিয়ে এসেছে ইট-খোয়া। সেই গর্ত আবার ভরাট করা হচ্ছে ইট-খোয়া দিয়েই। এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে দরবেশহাট ডিসি সড়ক।
বর্ষা শেষ হলেও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহন চালকদের যেমন বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দরবেশহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে সড়কের গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে যান চলাচলে কিছুটা সুবিধা হলেও তাজমহল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত ভরাটে ইট ও কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তাতে সড়কের উঁচু-নিচু অবস্থা দূর হয়নি। বরং ছড়িয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী ও অসমতল সড়কে যানবাহন চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়কটির বিভিন্ন অংশে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের বারবার গতি কমাতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, পিকআপ ও মিনিট্রাক চলাচলে তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। গর্ত এড়াতে গিয়ে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, দরবেশহাট ডিসি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। এ সড়ক দিয়ে গাছ ও বাঁশবোঝাই ট্রাক চলাচল করে। পাশাপাশি আশপাশের ইটভাটাগুলোতে ইট, কংক্রিট ও মাটি পরিবহনে ভারী যানবাহন ব্যবহার করা হয়।
জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয়। বর্ষা শেষ হলেও সড়কের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা জরুরি।
পুটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোলাইমান বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তিনি বলেন, এমচর হাটবাজার, মাস্টারপাড়া টার্নিং, গৌড়স্থান লাকীপাড়ার আগে-পরে, নয়াবাজার হয়ে হাসনাভিটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নেজাম উদ্দিন বলেন, সড়কের গর্তের কারণে যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় খুব সতর্ক থাকতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনও। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা হলে চালক ও যাত্রী—উভয়েরই ভোগান্তি কমবে।
জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটির সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু মালামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদার কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে দরপত্রটি বাতিল করা হয়।
কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পল্লি সড়ক ও সেতু মেরামত কর্মসূচির আওতায় দরবেশহাট থেকে এমচর হাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রাক্কলন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি সভা আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অনুমোদন পাওয়া গেলে সড়কটির সংস্কারকাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
The post জোড়াতালিতে চলছে দরবেশহাট সড়ক appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
